ভারতজুরে সক্রিয় রয়েছে ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু। কয়েকদিনের টানা বর্ষণের পর ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস, দেশটির উত্তর-পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারসহ ১৮টি রাজ্যে আগামী দুই থেকে তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, উত্তর প্রদেশ ও মেঘালয়সহ অন্তত ৫টি রাজ্যে প্রবল বৃষ্টির শঙ্কায় জারি করা হয়েছে আবহাওয়া সতর্কবার্তা।
এরইমধ্যে তামিলনাড়ু ও কেরালার পর অতিভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে ভারতের উত্তরাখণ্ড।এছাড়া, ভূমিধসে ও পাহাড় ধসে বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় বন্যা কবলিত এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে ত্রাণ কার্যক্রম।
চীনের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানার পর ক্রমেই দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে টাইফুন বাভি। যা চলতি বছরে চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ঝেজিয়াং প্রদেশের ২৮ লাখের বেশি মানুষকে।
ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে টাইফুন বাভির ক্ষয়ক্ষতি চিহ্ন। এর প্রভাবে পূর্ব ও উত্তর চীনজুড়ে অব্যাহত রয়েছে ঝড়ো হাওয়াসহ প্রবল বৃষ্টিপাত। আকস্মিক বন্যায় এরইমধ্যে তলিয়ে গেছে প্রধান প্রধান শহরের সড়ক-মহাসড়ক, বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে গেছে দেড় হাজারের বেশি গাছপালা। এছাড়াও, প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন খামার ও কৃষিজমি।
আরও পড়ুন:
ব্যাপক ভূমিধস হয়েছে দেশটির পূর্ব অংশের পার্বত্য অঞ্চলে। বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ১ কোটিরও বেশি বাসিন্দা এখনও পানি-বন্দি। বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট ও হাজারের বেশি ট্রেন পরিষেবা। বন্ধ রয়েছে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে, চীনের অন্যতম অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি কেন্দ্র ঝেজিয়াং প্রদেশে আশঙ্কার তুলনায় ধ্বংসযজ্ঞ কম হয়েছে বলে মনে করেন বাসিন্দারা। টাইফুন বাভি উপকূলে আঘাত হানার একদিন পর ক্ষয়ক্ষতি সরিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করার চেষ্টায় আছেন তারা।
টাইফুন বাভির প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জাপান, তাইওয়ানসহ ফিলিপিন্সের বড় একটি অংশ। ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং গাছ পড়ে ফিলিপিন্সে মারা গেছে বেশ কয়েকজন। এখনো নিখোঁজ অনেকে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিষদ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে দেড় লাখ পরিবার। ঝড়ে আংশিক ও পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে ৮০০ এর বেশি ঘরবাড়ি।




