সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এক ভাষণে বলেন, ‘ট্রাম্প অনুমোদন ছাড়া, কোনো কৌশল ছাড়া এবং যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধ শুরু করেছেন।’ তিনি জানান, তিনি নিজেও বিলটির বিপক্ষে ভোট দেবেন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের (এনডিএএ) ওপর অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ৫০ ও বিপক্ষে ৪৬ ভোট পড়ে। তবে ১০০ আসনের সিনেটে বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পায়নি। দলীয় লাইন ধরেই ভোট হয়েছে। সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করতে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন ছাড়া সব রিপাবলিকান সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
গত মাসে সশস্ত্র বাহিনী কমিটির নয়জন ডেমোক্র্যাট সদস্য এই বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার পর থেকেই এটি আটকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাধারণত এনডিএএ দুই দলের সমর্থনে সহজেই পাস হয়ে থাকে। তবে ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, পেন্টাগনের বিশাল বাজেট অনুমোদন করলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু করা যুদ্ধের অনুমোদন হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঠিক এমন সময়েই ভোটটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সব বন্দরে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল ও নতুন করে হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের আরেকটি আপত্তি হলো, ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে কাটছাঁট করা সত্ত্বেও সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে নিতে চাইছে। এনডিএএর ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের বাইরে বাজেট রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও ৩৫ হাজার কোটি ডলার চেয়েছেন ট্রাম্প। এই প্রক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়াই অর্থ ছাড় করা সম্ভব।
বিলটির পক্ষে সমর্থন চেয়ে জন থুন ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘নিরাপত্তার চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়ার’ অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, এই বিলটি আজ ও আগামীর জন্য সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিশ্চিত করে।
এবারের এনডিএএতে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কতটি যুদ্ধজাহাজ, উড়োজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনা হবে থেকে শুরু করে সেনাদের বেতন বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক হুমকি মোকাবিলার বিষয়গুলো এই বিলে অন্তর্ভুক্ত। দুই দলের কাছেই ‘অবশ্যই পাস করাতে হবে’ এমন গুরুত্বপূর্ণ বিল হিসেবে পরিচিত এই আইন গত ছয় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিবছর কার্যকর হয়ে আসছে।
এই ধাক্কার পরও এনডিএএর প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। প্রতি বছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট আলাদাভাবে এনডিএএর নিজ নিজ সংস্করণ পাস করে। এরপর সশস্ত্র বাহিনী কমিটি একটি সমন্বিত সংস্করণ তৈরি করে, যা দুই কক্ষে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপিত হয়। সমন্বিত সংস্করণটি পাস হলে সেটি সইয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে।





