নিষেধাজ্ঞার পরও অনলাইনে সক্রিয় ৮০ শতাংশ অস্ট্রেলীয় শিশু

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট ব্লক
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট ব্লক | ছবি: এখন টিভি
0

সরকারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরও অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের নিচের ৮০ শতাংশ শিশু- কিশোর এখনও অনলাইনে সক্রিয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই- সেফটি। সংস্থাটি বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আইন কার্যকরের পরও এর প্রয়োগ নিশ্চিত হচ্ছে না। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ১৬ বছরের নিচের বয়সীদের লাখ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

গেল বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীয়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অস্ট্রেলিয়া সরকার। শিশু ও তরুণ- তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রামসহ সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ কারণে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তটি নেয়া হয় বলে দাবি করে আলবানিজ সরকার।

তবে শুরু থেকেই অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের শঙ্কা ছিল, নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে সক্রিয় থাকবে ১৬ বছরের নিচের শিশু- কিশোররা। এবার এটিই সত্য প্রমাণিত হলো অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই- সেফটির সাম্প্রতিক গবেষণায়।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর প্রথম ৩ মাস অর্থাৎ গেল বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের ওপর গবেষণা চালিয়ে ই- সেফটি বলছে, নিষেধাজ্ঞার পরও ৮০ শতাংশেরও বেশি শিশু- কিশোর সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের ৮ জন শিশু- কিশোর অনলাইনে সক্রিয়। আর নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে প্রায় ৫৮ শতাংশ শিশু- কিশোর।

আরও পড়ুন:

ই- সেফটি বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায়, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৬ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাটসহ সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে। এছাড়াও, নিষেধাজ্ঞার আগে যে অ্যাকাউন্টগুলো খোলা হয়েছিল সেগুলো এখন সচল আছে বলে ই- সেফটির গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে ই- সেফটির প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পর ভিন্ন যুক্তি উত্থাপন করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটির উৎপাদনশীলতা, দাতব্য ও কোষাগার বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী অ্যান্ডু লির দাবি, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর কয়েক লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন মেনে নিয়ে বেশিরভাগ শিশু- কিশোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এড়ানোর উপায় খুঁজে বের করেছে বলেও দাবি তার।

অস্ট্রেলিয়ার দাতব্য ও কোষাগার বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী অ্যান্ডু লি বলেন, ‘আমরা কখনো আশা করিনি যে, এটি শতভাগ মানা হবে। মদ্যপানের ন্যূনতম বয়স সংক্রান্ত আইনগুলো শতভাগ মানা হয় না, কিন্তু তা সত্ত্বেও এই আইনটি থাকাটা যথাযথ।’

শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আমিরাত ও ফ্রান্সও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

এফএস