বিদেশ থেকে তেল আমদানির খরচ কমাতে চলতি বছরের এপ্রিলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি, ই-২০ পেট্রোল চালু করে ভারত সরকার। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে কিছু নির্বাচিত শহরে পরীক্ষামূলকভাবে ই-২০ জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়।
ই-২০ চালুর ২ মাস পর এসে দেখা যাচ্ছে, পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোয় গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতির পাশাপাশি কমে যাচ্ছে মাইলেজ। আবার বিরোধীদের অভিযোগের তীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই পুত্রের দিকে। ইথানল ব্যবসায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রীর পরিবার জড়িত থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার এই ই-২০ চালুর ব্যাপারে এত আগ্রহী বলে খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।
এমন প্রেক্ষাপটে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আন্দোলন সফল হওয়ার পর এবার বিরোধী শিবিরের নজরে আছেন এ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি। আন্দোলনের নেতৃত্বে এবার আম আদমি পার্টি।
আরও পড়ুন
ই-২০ পেট্রোল চালুর বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র নিয়ে আগামী ৪ আগস্ট মিছিল নিয়ে মোদির বাসভবনে যাবেন তারা।
গতকাল (শনিবার, ১ আগস্ট) ‘ন্যাশনাল টাউনহল এগেইনস্ট ই-২০’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন কেজরিওয়াল। বলেন ৪ আগস্ট বেলা ১২টায় অনলাইন আবেদন পত্রটির মুদ্রিত কপি মোদির কাছে পৌঁছে দেবেন তিনি। এসময় সঙ্গে নেবেন ১০০ জনকে।
আম আদমি পার্টির দাবি, ই-২০ পেট্রোল যদি নিরাপদ হতো সরকার অবশ্যই আলোচনা করতে রাজি হতো। কিন্তু তাদের এমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। যদিও বিজেপি সভাপতি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইঞ্জিন বিকল বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ১০০ গাড়ির প্রমাণ দেখাতে পারবেন না কেজরিওয়াল।
এখানে কেজরিওয়াল যদিও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করিকে সরাসরি দোষ দিচ্ছেন না। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির জেরেই ভারতে জোর করে ই-২০ নীতি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর, সরকারও চায় ট্রাম্পকে হাতে রাখতে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩ দফা দাবি জানাবে আম আদমি পার্টি। মূল দাবি, পাম্পে গ্রাহকদের সাধারণ পেট্রোল অথবা ই-২০ জ্বালানি দুটো নেয়ারই সুযোগ দিতে হবে। এছাড়াও, পেট্রোল ও ইথানলের দাম কমানোর নিশ্চয়তা চায় আম আদমি পার্টি।দ




