পাঁচ দিনের ব্যস্ততা, কূটনীতির নানা সমীকরণ আর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বার্তা তুলে ধরার পর এবার ফেরার পালা। তবে ফেরার দিনও ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দিন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। পরে এনিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ওরা অত্যন্ত তার নেতৃত্বে যে যেদিকে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং তারা মনে করছে বাংলাদেশ এখন ভালো সময় তাদের বিনিয়োগের জন্য। যে পলিসি নেয়া হয়েছে, পলিসিগুলোকে যেভাবে রোল আউট করা হচ্ছে এবং যে অর্থনৈতিক ফিলোসফি, দর্শনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তারা অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে।’
কুয়েতের স্থায়ী মিশনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ শাবাহ খালেদ আল হামাদ আল সাবাহর সঙ্গে বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রীর। দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বৈঠক করেন প্রধানন্ত্রীর সঙ্গে।
ইন্টারন্যাশনাল পিস ইন্সটিটিউশনের প্রেসিডেন্ট জায়াদ রায়াদ আল হুসেইনের সঙ্গে ছিল মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক। আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা, ও সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে তার সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ আমাদের জন্য খুব ইম্পরট্যান্ট। বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং ডি-রেগুলেশন, ইকোনমিক লিবালাইজেশন, আমাদের বাজেট এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।’
এসময় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখতে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ড. সালেহ শিবলী।
তিনি বলেন, ‘সব সময়ই কীভাবে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যায়, কীভাবে মানুষের পক্ষে ভূমিকা রাখা যায়, কীভাবে এই বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত, ভঙ্গুর অর্থনীতির যে বাংলাদেশটিকে উনি পেয়েছেন, সেটিকে কীভাবে আবার পুনর্গঠন করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া যায়, সে কাজটি উনি করে চলেছেন।’
আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ তারেক রহমানের নেতৃত্বে গোলামী থেকে বের হয়েছে। এই দেশ আর কোনোদিন গোলামীতে ফিরবে না। বাংলাদেশ চলবে তার নিজস্ব গতিতে চলবে—বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫ বছর বাংলাদেশের অটোক্রেসি ছিল। তো গণতান্ত্রিক একটা ডেফিসিট ছিল, ডিপ ডেফিসিট। ইন্সটিটিউশনাল ব্রেকডাউন ইত্যাদি। অ্যান্ড দেন উেই হ্যাভ রিসেন্টলি দ্য এনার্জি ক্রাইসিস। তো এই কনটেক্সটটা কিন্তু সবাই গ্রহণযোগ্য, আস্তে আস্তে এটা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে আমাদের এক্সটেনশনের আবেদনে।’
যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




