পেরুর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ওপর বিধ্বস্ত পর্যটকবাহী বিমান

জার্মান পর্যটকবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্তের পর ঘটনাস্থলে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা
জার্মান পর্যটকবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্তের পর ঘটনাস্থলে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা | ছবি: রয়টার্স
0

পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পেরুর সরকার। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পেরুর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিমানটিতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের ১১ জন বিদেশি পর্যটক এবং দুজন ক্রু ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাজকা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার এবং নাজকা লাইনস থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে সোকোস এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ছোট আকারের এই বিমানটি ছিল সেসনা ক্যারাভান সি-২০৮ মডেলের এবং এটি পেরুর স্থানীয় বিমান সংস্থা ‘অ্যারোদিয়ানা’র মালিকানাধীন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে পিসকো বিমানবন্দর থেকে এটি উড্ডয়ন করেছিল।

পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বেলা ১টার দিকে ক্রুরা নাজকা বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারকে জরুরি পরিস্থিতির বিষয়ে জানান। এর কিছুক্ষণ পরই সব রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পেরুর সংবাদমাধ্যম আরপিপি জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। আগুন নেভাতে ও প্রাথমিক উদ্ধারকাজ চালাতে দমকল বাহিনী এবং পৌর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধু ধু মরুভূমিতে একটি ছোট বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে ওই ভিডিওর সত্যতা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে। বিমান সংস্থা অ্যারোদিয়ানা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের ফ্লাইট সূচি মূল্যায়ন করবে’।

নাজকা লাইনস হলো পেরুর দক্ষিণে মরুভূমির বুকে খোদাই করা বিশাল আকৃতির নকশা ও জ্যামিতিক চিত্র। এটি দেশটির অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য, যেখানে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ পর্যটক আসেন। সাধারণত ছোট বিমানে চড়ে এসব নকশা দেখতে হয়।

কাছের মারিয়া রেইশে বিমানবন্দর থেকে নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুক্রবার স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। কারণ, সেদিন বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। এতে ধুলা উড়ে দৃষ্টিসীমা কমে যাচ্ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বাতাসের কারণে দুজন পেরুভীয় পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান এবং ছয়জন বিদেশি পর্যটকবাহী আরেকটি বিমান মার্কোনা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

এএম