হাঙ্গেরিতে সংকটজনক পাঁচদিন সামনে, বন্ধ হচ্ছে একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্র

হাঙ্গেরির পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দৃশ্য
হাঙ্গেরির পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দৃশ্য | ছবি: রয়টার্স
0

হাঙ্গেরির সামনে ‘সংকটজনক পাঁচদিন’ অপেক্ষা করছে। আজ (রোববার, ২ আগস্ট) এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার। দানিউব নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ঠিক এমন সময়েই ধেয়ে আসছে নতুন এক তাপপ্রবাহ।

দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রচণ্ড গরম ও খরায় ইউরোপের বড় একটি অংশ কাবু হয়ে পড়েছে। এতে নদীগুলোর পানির স্তর নেমে গেছে; পানি সরবরাহ, নৌপরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ।

হাঙ্গেরির দুই গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাকস পারমাণবিক কেন্দ্রে চারটি রুশ-নির্মিত চুল্লি রয়েছে। এসব চুল্লি ঠান্ডা রাখার কাজে দানিউব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় রোববার কেন্দ্রটি তার মোট উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ১০ শতাংশ কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। জার্মানি থেকে শুরু হয়ে কৃষ্ণসাগরে গিয়ে মিশেছে এই দানিউব। দেশটির পানি কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে নদীটির পানির স্তর আরও কমে যাবে।

ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ম্যাগিয়ার বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে সংকটজনক পাঁচ দিনের মুখোমুখি। আগামীকাল থেকেই পাকস বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না, অথচ সামনেই আসছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সবচেয়ে গরম দিনগুলো। আমাদের বিদ্যুৎ গ্রিড, জনসেবা ব্যবস্থা এবং আমাদের নিজেদের ওপরও ভয়াবহ চাপ পড়বে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেছেন, পাকস কেন্দ্র কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, নদীর পানি কমে যাওয়ার কারণে হাঙ্গেরিতে নৌপরিবহন ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী বুদাপেস্টের উপকণ্ঠসহ ১০০টিরও বেশি শহর ও গ্রামে পানি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ম্যাগিয়ার প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, স্থানীয় সরকার এবং জনসাধারণকে সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে বা অন্য সময়ে সরিয়ে নিতে আহ্বান জানান। সোমবার থেকে বড় বড় কোম্পানির ওপর বাধ্যতামূলক বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না, তা রোববার সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান।

এই সংকটে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের চড়া দামের কারণে হাঙ্গেরির ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি ফোরিন্ট (৩১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬৩ কোটি ডলার) পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। ম্যাগিয়ারের তিসজা পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক রাদনাই ফেসবুকে এ কথা জানিয়েছেন।

এএম