ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

রয়টার্সের প্রতিবেদন

প্রদর্শনীতে রাখা এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র
প্রদর্শনীতে রাখা এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র | ছবি: রয়টার্স
0

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের মজুত থাকা নির্ভুল নিশানার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশই ব্যবহার করে ফেলেছে। এই তথ্যসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সেনাবাহিনীর এই দূরপাল্লার অস্ত্রগুলোর মধ্যে প্রধানত রয়েছে সারফেস-টু-সারফেস বা ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ (অ্যাটাকমস) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ (পিআরএসএম)। সূত্রগুলোর মধ্যে দুজনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ‘প্রায় সবকটি’ ব্যবহার করে ফেলেছে।

অ্যাটাকমস ও পিআরএসএম ফুরিয়ে আসার বিষয়টি এর আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি। এই ধরনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের একেকটির দাম ১০ লাখ ডলারের বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানিয়েছে, মজুত কমে যাওয়ায় রাশিয়া ও চীনকে ঠেকানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য প্রকাশ করেছে। সেখানে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে ‘অনেক বেশি’ এবং প্রয়োজনের চেয়েও ‘অতিরিক্ত’ অস্ত্র রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্র উৎপাদন করছে।’

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই এখন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা চলছে। তাদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধে যেভাবে অস্ত্র খরচ হচ্ছে, তাতে বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে সংকট তৈরি হলে পেন্টাগন হয়তো কার্যকর সাড়া দিতে পারবে না। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ‘প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশই খরচ হয়ে গেছে। এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত যুদ্ধ শুরুর তুলনায় ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘টমাহক’ ক্রুজ মিসাইলেরও প্রায় অর্ধেক ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এএম