এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার কথা অস্বীকার তেহরানের। অন্যদিকে, পেন্টাগনের অস্ত্র ঘাটতির কথাকে গুজব আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধি-নিষেধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও সার সরবরাহে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে পণ্য সরবরাহের সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং পরিবহন ও বীমা খরচ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যার প্রভাব ছড়িয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। তিনি আরও জানান, কোনো তৃতীয় পক্ষ এ প্রক্রিয়ায় বাধা না দিলে আগামী শুক্রবারের মধ্যে একটি যৌথ ঘোষণা আসবে। তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যকার এই বোঝাপড়াকে অত্যন্ত পেশাদার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন বাঘাই।
ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, পরিকল্পিত এই নৌপথের বড় অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। আর কিছু অংশ যাবে ওমানের জলসীমার মধ্যে দিয়ে।
তবে জাহাজের ওপর শুল্ক বা সার্ভিস ফি বসানো নিয়ে দু'পক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক দাবি করলেও ওমান চায় ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র কোনো শুল্ক বা টোল না রাখার পক্ষে অনড়। এছাড়া অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণকারী আইআরজিসি আলোচনায় অনুপস্থিত থাকায় চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হরমুজ খুলে দেয়া ও সংকট নিরসনে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারা যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনীতিকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে এ আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ আমাকে ফোন করে খুব বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমরা কি কথা বলতে পারি? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমরা কথা বলতে পারি। চলুন একটি সমাধান করে ফেলি। এটা গত ৫০ বছরে অন্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল। আমি এমন কিছু করেছি যা আমাকে করতেই হতো। কারণ তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে পুরো বিশ্বটাই অন্যরকম হয়ে যেত।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার আশা বাড়ায় টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।





