গত জুনে ‘এল নিনো’ আবহাওয়া প্যাটার্ন নিশ্চিত হওয়ার পর বছরের শেষভাগে তা আরও তীব্র রূপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে বিশাল এই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল খরা, বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ব্রাজিলে ভূমি ব্যবহারের ওপর করা বার্ষিক গবেষণায় পরিবেশ পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ম্যাপবায়োমাস’ জানিয়েছে, চার দশক আগে ব্রাজিলের মোট ভূখণ্ডের ৭৯ শতাংশ প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে আচ্ছাদিত ছিল। বর্তমানে এই হার নেমে এসেছে ৬৫ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে আমাজন রেইনফরেস্ট ও জীববৈচিত্র্যপূর্ণ সেরাদো সাভানা অঞ্চল।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির বড় অংশটি কৃষি বা পশুপালনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে যেখানে দেশটির মোট ভূখণ্ডের ১৮ শতাংশ কৃষি বা পশুপালনে ব্যবহৃত হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশে।
ম্যাপবায়োমাসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব অঞ্চলে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল কেটে কৃষিজমিতে রূপান্তর করা হয়েছে, সেখানে চলতি বছরের মতো শক্তিশালী ‘এল নিনো’-র সময় চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বেশি। সংস্থাটির সাধারণ সমন্বয়ক তাসো আজেভেদো এএফপিকে বলেন, ‘২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর সময় আমাজনের বন-উজাড় হওয়া এলাকাগুলোতে বনাঞ্চল বেষ্টিত এলাকার তুলনায় বৃষ্টিপাত অনেক বেশি কমে গিয়েছিল।’
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের চারণভূমিগুলোর কৃষি এলাকায় প্রাকৃতিক বনভূমির তুলনায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য রিও গ্রান্দে দো সুলে ঐতিহাসিক বন্যায় প্রায় ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
আজেভেদো বলেন, ‘ভূমি ব্যবহারের ধরন এল নিনো নিজেই বদলাতে পারে না, তবে এর প্রভাবকে বদলে দিতে পারে। এটি স্পষ্ট করেছে যে ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আমাদের ঝুঁকির মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দেশে এসব আবহাওয়াগত ঘটনা কতটা তীব্র হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে।’
তবে ঠিক কী কারণে কৃষি এলাকাগুলোতে এল নিনোর প্রভাব বেশি পড়ছে, তা এই গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়নি বলে তিনি জানান। তার মতে, ‘একটি ধারণা হলো, আমাজনে বন কাটার ফলে বাষ্পীভবন ও স্থানীয় বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে। এতে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বৃষ্টিপাত কমছে। এল নিনো এই প্রভাবের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।’
গত মাসে ব্রাজিল সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, এ বছর ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ এল নিনোর আশঙ্কা রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর প্রভাবে সারা বিশ্বের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। ব্রাজিলিয়ান কনফেডারেশন অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড লাইভস্টক (সিএনএ) ইতোমধ্যে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ‘সুপার এল নিনো’ কফি, সয়া ও চিনির মতো ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।





