প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের দাবির পরও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে। এর আগে তারা দাবি করেছিলেন, ইরানের এই সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
‘ওয়াশিংটন পোস্টের’ প্রতিবেদনে ধ্বংস হওয়া এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সংখ্যা মে মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের চেয়ে সামান্য বেশি বলে উঠে এসেছে। ব্লুমবার্গ যুদ্ধ-পূর্ব মজুতের ২০ শতাংশ ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছিল।
সেন্সর, রাডার ও অস্ত্র সজ্জার ওপর নির্ভর করে প্রতিটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার। মার্কিন বিমানবাহিনীর নথি অনুযায়ী, চালকবিহীন এই আকাশযান নজরদারি, প্রতিরক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ এবং লক্ষ্যভেদী নিখুঁত হামলার জন্য উঁচু আকাশের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন’ গাইডেড বোমা বহনে সক্ষম।
ড্রোনটি ধীরগতিতে ও নিচু উচ্চতায় ওড়ে। এই কারণে এটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ড্রোনগুলো প্রায়ই হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ব্যবহার করা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই জলপথে ‘ইস্পাতের দেয়ালের’ মতো একটি নৌ-অবরোধ কার্যকর করেছেন।
অস্ত্র মজুতে টান
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এমকিউ-৯ রিপার ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে গেছে। পেন্টাগন জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি এই রিপার ড্রোনের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তারা লক্ষ্যবস্তুতে ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালাতে সক্ষম কম খরচের অস্ত্রসজ্জিত পর্যবেক্ষণ ড্রোনের একটি বহর দিয়ে এর স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
পাশাপাশি অত্যাধুনিক দূরপাল্লার (স্ট্যান্ডঅফ) গোলাবারুদের মজুতও ফুরিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধে দেশটি এখন পর্যন্ত ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজারেরও বেশি প্যাট্রিয়ট ও ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে। তবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরিতে’ ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার-এর পরিচালন ব্যয় মেটাতে এবং অস্ত্র সরবরাহ পুনরায় পূরণ করতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬ হাজার ৭০০ কোটির (৬৭ বিলিয়ন) বেশি ডলারের সম্পূরক তহবিল বরাদ্দ চেয়েছে।
গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ওয়াশিংটনের গোলাবারুদের গুরুতর ঘাটতি নিয়ে ওয়ার সেক্রেটারি পিট হেগসেথের মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প। এই ঘাটতিই তার প্রশাসনের ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছিলেন তিনি।





