সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, দুই ছোট সন্তানকে বেশি সময় দিতে এ ‘তিক্ত-মধুর সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন তিনি। গত মে মাসে ভিভিয়ানা নামের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেয়ার পর মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে ফেরার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই এ ঘোষণা এলো।
তিনি লেখেন, ‘সত্যি বলতে, মেয়ের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হিসেবে ধারাবাহিক সময়, শক্তি ও মনোযোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি আমার দুই ছোট সন্তানের জন্য সেরা মা হয়ে উঠতে পারছি না।’
‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেয়া নিজের এক পোস্টে ট্রাম্প লেভিটকে ‘আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন’ এবং ‘এ কার্যালয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ পদ ছাড়ার পেছনে তার প্রেরণাও তিনি বুঝতে পারছেন বলে জানান।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব পদে রদবদল হওয়া তুলনামূলকভাবে সাধারণ ঘটনা। বিল ক্লিনটনের পর প্রত্যেক প্রেসিডেন্টের মেয়াদে অন্তত দুজন প্রেস সচিব ছিলেন। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প চারজন প্রেস সচিব বদলেছেন। এদের মধ্যে কেবল সারা হাকাবি স্যান্ডার্স লেভিটের চেয়ে বেশি সময় এ পদে ছিলেন। লেভিট আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়ার পর কে এ দায়িত্ব নেবেন, তা প্রেসিডেন্ট এখনো ঘোষণা করেননি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের যেসব সদস্য পদত্যাগ করেছেন বা বরখাস্ত হয়েছেন, তাদের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে লেভিটের নামও। তালিকায় তিনজন মন্ত্রিসভা সচিব এবং তার শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টাও রয়েছেন। তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় এবার রদবদলের সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম মেয়াদে তিনি ১৪ জন মন্ত্রিসভা সচিব বদলেছিলেন, যা রোনাল্ড রিগ্যানের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া তার মন্ত্রিসভার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ পদের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া প্রধান ব্যক্তিদের একটি চিত্র এখানে তুলে ধরা হলো।
প্যাম বন্ডি (অ্যাটর্নি জেনারেল)
বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে ১৪ মাস দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্পের অগ্রাধিকারগুলো আক্রমণাত্মকভাবে বাস্তবায়ন করেন বন্ডি। এতে সমালোচকরা তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা পূরণের অভিযোগ তোলেন।
তিনি ডিওজের ক্যারিয়ার প্রসিকিউটরদের গণহারে বরখাস্ত করার তদারকি করেছেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার তদন্ত করা এফবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদ ছাড়তে বাধ্য করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বন্ডির অধীনে ট্রাম্পের কথিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি তদন্ত শুরু করে ডিওজে। এদের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোম পাওয়েল, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসও ছিলেন। জেফরি এপস্টেইনসংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে বিতর্কেরও কেন্দ্রে ছিলেন বন্ডি। বিতর্কের এসব বিষয়ের মধ্যে কুখ্যাত এই যৌন অপরাধীর বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের তদন্তের লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথির অসম্পূর্ণ প্রকাশও রয়েছে।
বন্ডির প্রস্থান সম্পর্কে ঘোষণার সময় ট্রাম্প তার সম্পর্কে ইতিবাচক কথাই বলেছিলেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত মিলছে, বন্ডি তার নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে প্রেসিডেন্ট ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টেইন নথি সামলানো এবং কথিত রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র নিশ্চিত করার ব্যর্থতা নিয়েই ট্রাম্প বেশি অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রথম মেয়াদে তার অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকেও ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের জন্য পদত্যাগ করতে চাপ দিয়েছিলেন।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনি পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর দ্বিতীয় অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার পদত্যাগ করেন। বন্ডির প্রস্থানের পর ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে ডিওজের নেতৃত্বে নিয়োগ দেন ট্রাম্প। দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার পর আগস্টের শুরুতে ব্লাঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অনুমোদন পান।
ক্রিস্টি নয়েম (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব)
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব হিসেবে নয়েমকে ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তার সময়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের মতো সংস্থাগুলো নজিরবিহীন অভিযান, আটক ও নির্বাসন কর্মসূচি চালায়।
জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে নিহত হওয়ার পর তিনি বিশেষভাবে সমালোচিত হন। তার অধীনে নির্বাসনের হার নিয়েও হোয়াইট হাউস অসন্তুষ্ট বলে প্রতিবেদন এসেছে।
ডিএইচএস পরিচালনার সময় নেয়া সিদ্ধান্তের জন্যও নয়েম সমালোচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালানোও ছিল, যেখানে তাকে প্রধানভাবে দেখানো হয়েছিল।
৫ মার্চ ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নয়েমের স্থলাভিষিক্ত হবেন মার্কওয়েন মুলিন। তিনি সে সময় ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর ছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ছয়জন ভিন্ন ব্যক্তি ডিএইচএসের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে মাত্র দুজন সিনেটে অনুমোদন পেয়েছিলেন।
তুলসি গ্যাবার্ড (ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক)
ডিএনআই হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গ্যাবার্ড ফেডারেল সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে সংস্কার আনার কাজ করেন। তিনি বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই এবং ৭০ কোটি ডলারের বাজেট কর্তনের তদারকি করেছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় নিয়ে সংশয় তৈরি করতে ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির বিষয়ে ট্রাম্পের ভিত্তিহীন দাবি জোরদারের প্রচেষ্টায়ও তিনি জড়িত ছিলেন।
তার স্বামীর অসুস্থতা তার পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ হলেও, ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএনআই হওয়ার আগে আমেরিকার বৈদেশিক হস্তক্ষেপের সরব সমালোচক গ্যাবার্ড কখনো কখনো এই সংঘাত সম্পর্কে প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রশাসনের অবস্থানের বিরুদ্ধেও গিয়েছিলেন। জুলাইয়ের শেষে সীমিত পররাষ্ট্রনীতি ও গোয়েন্দা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী জে ক্লেটন গ্যাবার্ডের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পান।
মার্টি মাকারি (এফডিএ কমিশনার)
সাবেক এই সার্জন এফডিএর দায়িত্ব নেয়ার আগে কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য নীতির সরব সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান। বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সময়টি ছিল বেশ ঝঞ্ঝাপূর্ণ। তিনি বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরখাস্ত বা পদত্যাগের তদারকি করেছেন। গর্ভপাত-বিরোধী রিপাবলিকানদের রোষানলে পড়েছেন এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ঐকমত্যের বিরুদ্ধে গিয়ে এফডিএর মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফলের স্বাদের ই-সিগারেট অনুমোদনের এফডিএর সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধই তার জন্য শেষ পেরেক হয়ে দাঁড়ায়। জানা গেছে, তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন। মাকারি পদত্যাগ করার পর থেকে এফডিএর সাবেক উচ্চপদস্থ ডিপুটি কাইল ডায়ামান্তাস ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লরি চাভেজ-ডেরেমার (শ্রম সচিব)
চাভেজ-ডেরেমারের সময়ে শ্রম দপ্তর হোম হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরির মান এবং ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শের বিধিমালাসহ কর্মক্ষেত্রের কয়েক ডজন নিয়ম প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে শিশু ও দাসশ্রম হ্রাসের লক্ষ্যে দেয়া কোটি কোটি ডলারের অনুদানও বাতিল করা হয়েছে।
তবে অসদাচরণের অভিযোগ তার নীতিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশি সমালোচনার মুখে ফেলেছে তাকে। জানুয়ারিতে ক্ষমতার অপব্যবহারের একগুচ্ছ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছিলেন শ্রম দপ্তরের ইনসপেক্টর জেনারেল। এর মধ্যে অধস্তন এক কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং কর্মস্থলে মদ্যপানের অভিযোগও ছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি তার কর্মীদের দিয়ে তার ব্যক্তিগত কাজ করাতেন এবং তার স্বামী ও বাবা উভয়েই তরুণ নারী কর্মীদের কাছে ব্যক্তিগত টেক্সট মেসেজ পাঠাতেন। চাভেজ-ডেরেমার পদ ছাড়ার পর থেকে তার শীর্ষ ডিপুটি কিথ সন্ডারলিং ভারপ্রাপ্ত শ্রম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
টড লায়নস (আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক)
২০২৫ সালের মার্চে আইসিইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হওয়া লায়নস ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন অভিযানের চূড়ায় সংস্থাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সময়ে সন্দেহভাজন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আটক ও নির্বাসনের প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাম্পের গণনির্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষমতা বাড়াতে কংগ্রেসের কাছ থেকে বিশাল বাড়তি তহবিলও পেয়েছে সংস্থাটি।
আইসিইর কৌশল নিয়ে বিতর্ক দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা ডিএইচএস অচলাবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ। বৃহস্পতিবার হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে পড়ার পরের দিনই তার পদত্যাগের ঘোষণা আসে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইসিইতে বড় ধরনের রদবদল হয়েছিল, যেখানে চার বছরে সাতজন ভিন্ন কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লায়নস পদত্যাগ করার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেভিড ভেনতুরেলা।
ড্যান বোঙ্গিনো (এফবিআইয়ের ডেপুটি পরিচালক)
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও রক্ষণশীল ভাষ্যকার বোঙ্গিনো নিজের মিডিয়া ক্যারিয়ারে ফিরে যাওয়ার জন্য পদত্যাগের আগে এক বছরেরও কম সময় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) দ্বিতীয় শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ পদে থেকে তিনি তার জনপ্রিয় পডকাস্টে আলোচনা করা কিছু বিষয় তদন্তের অবস্থানে চলে যান।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ইউএস ক্যাপিটলের কাছে পাইপ বোমা রাখার সন্দেহভাজন খোঁজার তদারকিতে সাহায্য করেছেন তিনি। যেই মামলাটি তিনি তার পডকাস্টে নিয়মিত আলোচনা করতেন। এপস্টেইন মামলার বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এর আগে প্রচার করা ভিত্তিহীন তত্ত্বগুলোর সঙ্গে না মেলায় তার সাবেক শ্রোতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
লিন্ডসে হ্যালিগান (ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ভার্জিনিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি; বেআইনিভাবে দায়িত্ব পালন)
সেপ্টেম্বরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে সরকারের শীর্ষ প্রসিকিউটর হিসেবে কোনো ধরনের প্রসিকিউশনের অভিজ্ঞতা না থাকা হোয়াইট হাউসের এই সহকারী হ্যালিগানকে নিয়োগ দেন ট্রাম্প। জেমস কোমি বা লেটিসিয়া জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে হোয়াইট হাউসের চাপে আগের ইউএস অ্যাটর্নি এরিক সিবার্টের পদত্যাগের একদিন পরই তাকে এই নিয়োগ দেয়া হয়। হ্যালিগান কোমি ও জেমস উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে সই করেছিলেন।
পরে ফেডারেল একজন বিচারক রায় দেন যে হ্যালিগানকে বেআইনিভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তার অভিযোগপত্র জারি করার কর্তৃত্ব নেই। এই রায়ের পর ওই অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যায়। এই পদে হ্যালিগানকে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন এবং এক সপ্তাহ পরই ডিওজে ছেড়ে দেন।
জো কেন্ট (ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালক)
ইরান যুদ্ধ নিয়ে পদত্যাগ করার আগে ফেডারেল সরকারের অন্যতম শীর্ষ কাউন্টারটেরোরিজম কর্মকর্তা হিসেবে সাত মাস দায়িত্ব পালন করেছেন কেন্ট। সাবেক গ্রিন বেরে ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত কেন্ট গত মাসে এক চিঠির মাধ্যমে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্তের গভীর সমালোচনামূলক ছিল ওই চিঠি।
তিনি লিখেছিলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মকে এমন একটি যুদ্ধে লড়াই করতে ও প্রাণ দিতে পাঠানোর সমর্থন করতে পারি না, যা আমেরিকান জনগণের কোনো উপকার করছে না এবং আমেরিকান জীবনের মূল্যকেও যুক্তিসঙ্গত করে না।’ তার চিঠিতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের হাতে ট্রাম্পকে সংঘাতে টেনে আনার অভিযোগ তুলেছেন কেন্ট। কিছু রিপাবলিকানের যুক্তি, এই দাবি ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে জড়িত।
—ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদনের অবলম্বনে





