পারস্পরিক আস্থা-মর্যাদা রক্ষা ছাড়া তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা ‘ক্ষীণ’

এনডিটিভির প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: পিএমও
0

পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক আলোচনা ও মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর সম্ভব বলে জানিয়েছেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য না হলে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ সফর হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেও জানান তিনি।

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরেই চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরটি স্থগিত হয়ে যায়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ওই আয়োজনের সঙ্গে দেশটির সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনাবিরোধী জনমত বর্তমানে দেশের রাজনীতি ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তারেক রহমানের সরকার এ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে চাইছে যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল্যের বিনিময়ে হলেও তারা শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের কাছে নতিস্বীকার করবে না। অন্যদিকে ভারত বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ বজায় রেখে সম্পর্কের দুয়ার খোলা রাখার নীতি গ্রহণ করেছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’-কে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির বলেন, স্পষ্ট জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত না করে তাড়াহুড়ো করে ভারত সফরে না যাওয়ার নীতি নিয়েছে সরকার। তবে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে আগামী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে।

আরও পড়ুন

এর আগে চলতি সপ্তাহে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে প্রবল আগ্রহী এবং তার ভারত সফরে প্রাপ্য মর্যাদাপূর্ণ সংবর্ধনা দেয়ার প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়সহ কয়েকটি সাজা ঘোষণা করে বাংলাদেশের আদালত। গত ৫ আগস্ট গণভবন থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে এবং পরে ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনী’-র ‘লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস’ বিমানে (কল সাইন ‘এজ্যাক্স১৪৩১’) করে নয়াদিল্লির হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে আশ্রয় নেন তিনি। তাকে ফেরত দেয়ার অনুরোধ বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো কাজে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেয়া কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা আসামিকে আশ্রয় দেয়া লাখো বাংলাদেশিকে ক্ষুব্ধ করেছে।’ কূটনৈতিক রীতি বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে এর সপক্ষে সাফাই দেয়া সম্ভব নয়।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার সমর্থকদের দাবি, তারেক রহমান নিজেও প্রবাসে থাকা অবস্থায় একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েও রাজনীতি পরিচালনা করেছিলেন। পরবর্তীতে সেসব রায় ও সাজা বাতিল হলে ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

—এনডিটিভির প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম