প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৩৫ বছর বয়সী হার্প কেন নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ছাড়পত্রের কাজ শেষ করেননি, তা স্পষ্ট নয়। এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেন, কাগজপত্র জমা দিতে হার্প কয়েক দফা সময় বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। পরে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করার পরই প্রয়োজনীয় নথি জমা দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছাড়পত্রের জন্য যে ফরমটি পূরণ করতে হয়, সেটির নাম এসএফ-৮৬। এতে আর্থিক তথ্য, আগের বাসস্থান এবং বিদেশি যোগাযোগসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়। এছাড়া ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বছরে সিক্রেট সার্ভিস এবং ট্রাম্পের কিছু জ্যেষ্ঠ সহকারী হার্পকে নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলেছিলেন। তবে হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে ওই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছে এবং বলেছে, হার্পের এখন প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র আছে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘ন্যাটালি হার্পের সবার মতোই নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে, এবং তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলের একজন বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সদস্য।’
প্রতিবেদনে এক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কর্মকর্তারা হার্পের প্রেসিডেন্টের কাছে নিয়মিত যাতায়াত সীমিত করতে ‘নীরবভাবে কিছু পদক্ষেপ’ নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে তা সফল হয়নি। ওই সূত্রের ভাষ্য, হার্প ‘খুবই অনড়’ ছিলেন এবং তারা কী করতে চাইছেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আলোচনার একটি কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে তার প্রভাব। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হার্প একসময় ট্রাম্পকে প্রশংসাসূচক চিঠি লিখেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হার্পের সঙ্গে সম্পর্ককে তার বিচ্ছিন্ন ভাই ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলেছেন।
সিএনএনের বিশ্লেষক স্কট জেনিংস সিনেটর জন অসফের এক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অসফ এমন এক বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে ট্রাম্প ‘ন্যাটালির সঙ্গে ভ্রমণ’ করতে আগ্রহী। জেনিংস বলেন, হার্প ‘স্মার্ট’ এবং তিনি দেশ ও প্রেসিডেন্টকে সেবা দিতে চান।
গত মাসে তুরস্ক থেকে একটি সামরিক বিমানে ট্রাম্পের সঙ্গে সীমিতসংখ্যক স্টাফের যাত্রার খবরে হার্পের নামও আলোচনায় আসে। তখন ইরানের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে ছিল।
হার্পকে নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র আগে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছিলেন, হার্প হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এবং তাকে ঘিরে কিছু সংবাদমাধ্যমের আগ্রহকে তিনি ‘ফেক নিউজ’ বলে আখ্যা দেন।





