গত (শুক্রবার, ১৪ আগস্ট) মার্টল বিচে এক সমাবেশে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে অভিশংসন করা হবে। তারা আমাকে অভিশংসিত করবে। কেন করবে, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।’ ট্রাম্পই ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দুবার অভিশংসনের মুখে পড়েছেন। যদিও দুবারই তিনি রক্ষা পান।
মেয়াদের শেষ দুই বছর কংগ্রেসের সহযোগিতা না পেলে আইন পাসে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থেকে ট্রাম্প নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে অস্বাভাবিক কড়া ভাষায় কথা বলেন।
অনেক ডেমোক্র্যাট ইতিমধ্যেই তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে অন্তত তিনজন ডেমোক্র্যাট সদস্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। যদিও এতে খুব একটা ফল হয়নি।
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার বিষয়ে ডেমোক্র্যাট পার্টির ভেতরে বিভক্তি রয়েছে। কেউ কেউ ভোটারদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসার আশঙ্কা করছেন। কারও কারও মত, এতে দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো অগ্রাধিকার ইস্যুগুলো আড়ালে চলে যেতে পারে।
আগে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প বেশ নির্ভার ভঙ্গিতে কথা বলেছেন। বেশির ভাগ পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু জরিপে তাদের সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, রিপাবলিকান সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে না গেলে তার প্রতিপক্ষরা অর্থনীতি ধ্বংস করবে এবং তার অর্জনগুলো নস্যাৎ করার সুযোগ নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা হারলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, কর কমানোর সুবিধা হারাবেন, আমরা যা কিছু করেছি সব হারাবেন।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর ছাড় দিয়েছি। বকশিসের ওপর কর নেই, প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ওপর কর নেই, অতিরিক্ত সময় কাজের ওপর কর নেই। সব চলে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের কর বাড়বে। বেতন কমবে। চাকরি হারাবেন। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেশ ছেড়ে পালাবে।’
সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প প্রচারণা চালান সিনেটর ডারলিন গ্রাহামের পক্ষে। গত জুলাইয়ে ভাই লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। তবে প্রাথমিক নির্বাচনে সরাসরি জিততে পারেননি। মঙ্গলবার তাকে রান-অফ ভোটের মুখোমুখি হতে হবে।
গত ২৫ আগস্ট এক বিতর্কে তার পারফরম্যান্স ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। তাইওয়ান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে অতটা অবগত নই।’
নিজের দলের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ডারলিন গ্রাহামের জয় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক সময় ট্রাম্পের সমর্থনকে রক্ষণশীল রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার মনে করা হতো। কিন্তু মঙ্গলবার তার বাছাই করা তিন প্রার্থী রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে হেরে গেছেন।
সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প তার ‘মাগা’ সমর্থকদের অনুরোধ করেন, তারা যেন ‘ধরে নেন’ তিনিই ব্যালটে আছেন। তিনি জানান, নিজে প্রার্থী না হলেও তার রাজনৈতিক আধিপত্য এখানে ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তারা বলে, ট্রাম্প যখন ব্যালটে থাকে, তখন ভালো করে; কিন্তু ব্যালটে না থাকলে তার সমর্থকরা আসে না। তাই আমি সত্যিই চাই, আপনারা ভাবুন যে আমি ব্যালটে আছি। শুধু ভোটকেন্দ্রে আসুন আর ভোট দিন।’





