মিখাইল ফেদোরোভ অভিযোগ করেন, চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ কীভাবে জেতা সম্ভব—সে বিষয়ে কিয়েভের কোনো সার্বিক ভিশন বা পরিকল্পনা নেই। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অভাব, রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব দেশকে পেছনের দিকে টেনে রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফেদোরোভ বলেন, ‘আমি মনে করি এখন এমন একটি সন্ধিক্ষণ চলছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে। তবে দেখে মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে, ধীর গতিতে হেরে যাচ্ছি।’
ফেদোরোভের এমন মন্তব্যের জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় ফেদোরোভ যুদ্ধের পরিচালনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। এখন কেবল তার ব্যক্তিগত পদের পরিবর্তন ঘটেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ফেদোরোভ জানান, রুশ বাহিনী প্রতি মাসে ডজন ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের কারখানা ও গুদামগুলোতে আঘাত হানছে। কিন্তু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকায় কিয়েভ এসব হামলা ঠেকাতে পারছে না। অন্যদিকে রুশ বাহিনী দোনবাস অঞ্চলে ধীরে ধীরে সামনে এগোচ্ছে, আর ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনের সেনাসংখ্যা কম এবং সেনাদের মধ্যে লড়াইয়ের উৎসাহ কমে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোন, সস্তা ইন্টারসেপ্টর ও নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জোরদারের ওপর তাগিদ দেন ফেদোরোভ। তিনি বলেন, রুশদের পুরোপুরি থামিয়ে দেয়ার মতো প্রযুক্তি কিয়েভের হাতে থাকলেও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেনাকাটার অর্থ আগেই খরচ করে মন্ত্রণালয়ের বাজেটে ২ হাজার ৭০০ কোটি (২৭ বিলিয়ন) ডলার ঘাটতি তৈরির অভিযোগ এনেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ফেদোরোভ বলেন, তার হিসাব অনুযায়ী ঘাটতি ছিল প্রায় ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার এবং নতুন দরপত্র ও আন্তর্জাতিক সহায়তা থেকে সেই অর্থ জোগানের পরিকল্পনাও তাদের ছিল।
সম্প্রতি যুদ্ধকালীন নির্বাচনের দাবি তুলে ইউক্রেনের রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা। তবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধকালীন নির্বাচনের কঠোর বিরোধিতা করে বলেছেন, এতে দেশ ধ্বংস ও বিভক্ত হয়ে যাবে। নির্বাচনে নিজে লড়বেন কি না—তা স্পষ্ট না করলেও সামরিক প্রযুক্তি খাতে মূলধনের জোগাড় করতে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ফেদোরোভ।





