হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী করিডর নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনা, মাইন সরানোর কথাও আছে

আবিদ মঈন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদি | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী শিপিং করিডর চালু এবং প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খোলার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের অবস্থান থেকে তেহরান সরে আসেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ছয় মাসের দিকে গেলেও আলোচনার গতি ধীর বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা উঠে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও ওমান—দুই দেশই সরাসরি সংশ্লিষ্ট। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির করে রেখেছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই যেত।

কেন ওমান গুরুত্বপূর্ণ

মাঝ জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তাতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো ঠিক করার দায়িত্ব ইরান ও ওমানের আলোচনার ওপর ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল—এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ে।

এখন আলোচনায় কী আছে

ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার তেহরানে আলোচনায় একটি কাঠামো প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেছেন—যার মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী করিডর ও মাইন অপসারণের প্রকল্প। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, অস্থায়ী করিডর এবং ‘নিরাপদ নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা’ দ্রুত ঘোষণার আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, এরপর প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী সমাধান নিয়ে কাজ হবে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দেশটির গণমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজ ইরানের জলসীমা ব্যবহার করবে। আর উপসাগর থেকে বের হওয়া জাহাজ ওমানের জলসীমা হয়ে পরে আবার ইরানের জলসীমা দিয়ে যাবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্থায়ী করিডর নিয়ে সমঝোতা হলে ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী রুটের খুঁটিনাটি ঠিক করার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) যুক্ত আছে এবং ব্যবহৃত মানচিত্র সশস্ত্র বাহিনী করেছে।

এদিকে আইআরজিসি বুধবার বলেছে, প্রণালিতে ফি আরোপ করা হলে সেই রাজস্ব ইরান ও ওমান কীভাবে ভাগ করবে—সে বিষয়েও তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই ধরনের ফি আরোপের ধারণার বিরোধিতা করে আসছে।

কেন গতি ধীর

তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ তুলে নেয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া প্রণালি পুরোপুরি খোলার সিদ্ধান্ত হবে না। গারিবাবাদি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভঙ্গ করা সব অঙ্গীকার পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইয়েমেন পরিস্থিতির সমাধানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে।’

অন্যদিকে ওমান চাইছে নৌচলাচলের বিষয়টি যতটা সম্ভব বৃহত্তর সংঘাত থেকে আলাদা রাখতে। এএফপিকে ওমানি গবেষক আবদাল্লাহ বাবউদ বলেন, ওমান ও ইরান মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালির শাসন ও নিরাপত্তা কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছে—এ কারণেই গতি ধীর।

ওয়াশিংটনের অবস্থান

ইরান-ওমানের যৌথ বিবৃতির পর যুক্তরাষ্ট্র কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তেহরান এই দাবি মানে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ট্রাম্প ওমানকে বোমা হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন—যদি দেশটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পথে ‘বাধা হয়ে দাঁড়ায়’।

এই অবস্থায় তেহরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার ভূমিকা ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না করা—দুই দিক সামলাতে হচ্ছে মাস্কাটকে।

এএম