অসলোর রাজপ্রাসাদে পতাকা অর্ধনমিত করা হয়েছে। ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক শাসক রাজা হ্যারাল্ড গত ১৭ আগস্ট থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়ায় ভুগছিলেন, যাতে লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায় এবং ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার রাজপ্রাসাদ হ্যারাল্ডের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে ঘোষণা দিলে রাজপরিবারের সদস্যরা তার শয্যাপাশে ছুটে যান। তার স্ত্রী রানি সোনিয়া, হোকন ও তার স্ত্রী মেতে-মারিত এবং তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা বৃহস্পতিবারের বেশির ভাগ সময় রাজার পাশে কাটান। গণমাধ্যমের খবর, হোকন সারারাত জেগে ছিলেন।
শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অসলোর কেন্দ্রস্থলে রাজপ্রাসাদে জনতার ঢল নামে। মানুষ ফুল রেখে শোক প্রকাশ করে। ২৪ বছর বয়সী কাসপারা বোলস্টাড বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন স্থির ও উষ্ণ রাজা। মনে হয় পুরো নরওয়ের মানুষ তাকে আদর্শ হিসেবে দেখে। আপনি রাজতন্ত্রের পক্ষে থাকুন বা বিপক্ষে, তিনি সবার কাছেই জনপ্রিয় ছিলেন।’ ২৭ বছর বয়সী ম্যাগনুস স্কগসেথ বলেন, ‘তিনি এতটাই অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিলেন। যখন চারদিকে বিভেদ ও মেরুকরণ, তিনি ছিলেন উল্টো দিকের স্তম্ভ।’
১৯৯১ সালে সিংহাসনে বসা হ্যারাল্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন। তার পেসমেকার বসাতে হয়েছে এবং সরকারি কর্মসূচি কমাতে হয়েছে। তবে তিনি কখনোই পদত্যাগের কথা ভাবেননি। তার যুক্তি ছিল, তিনি নরওয়ের সংসদের সামনে আজীবনের শপথ নিয়েছেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে রাজার অবস্থার অবনতির কারণে বৃহস্পতিবার জার্মানি সফর বাতিল করেন।
নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য গত বছরটি ছিল অস্থির। ফেব্রুয়ারিতে টেনেরিফে ব্যক্তিগত সফরে গিয়ে হ্যারাল্ড সংক্রমণ ও পানিশূন্যতায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ৮৯ বছর বয়সী স্ত্রী সোনিয়া মে মাসে হৃদরোগের কারণে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাসপাতালে ছিলেন।
হোকনের স্ত্রী মেতে-মারিত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে তার নিয়মিত ও কখনো কখনো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ওই সময়ে এপস্টেইন ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
মেতে-মারিতের প্রথম সম্পর্কের সন্তান মারিউস বর্গ হইবিয়ও আইনি জটিলতায় আলোচনায় আছেন। জুন মাসে দুটি ধর্ষণ ও সাবেক সঙ্গিনীর ওপর সহিংসতাসহ ৩২টি অভিযোগে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। গুরুতর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ৫৩ বছর বয়সী মেতে-মারিতের জুলাই মাসে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়।
এসব ঘটনা সত্ত্বেও নরওয়ের জনগণের কাছে রাজপরিবার এখনো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। এর বড় কারণ হ্যারাল্ডের ঐক্যবদ্ধ করার ভূমিকা এবং তার বিনয়ী ও সাধারণ জীবনযাপন।





