ট্রাম্পের প্রশংসা পাওয়া ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক, সরবরাহকারীর বকেয়া না মেটানোর অভিযোগে মামলা

ট্রাম্পের ফ্রিডম ফুয়েল
ট্রাম্পের ফ্রিডম ফুয়েল | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে জ্বালানি বিক্রির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহবা পাওয়া গ্যাস স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে পেট্রোলের মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠান বকেয়া অর্থ আদায়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জর্জিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ম্যানসফিল্ড অয়েল কোম্পানি চলতি মাসে পেনসিলভানিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করে। এতে নিউজার্সির ব্যবসায়ী সৈয়দ কাজমি ও তার প্রতিষ্ঠান কেআরএসএমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় বলা হয়, গত মে মাসের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরুর দিক পর্যন্ত পেনসিলভানিয়ার একটি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪০ লাখ ডলার মূল্যের ১০ লাখ গ্যালনের বেশি জ্বালানি নেয়া হলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

ম্যানসফিল্ডের আইনজীবী উরস ব্রোডেরিক ফুরার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, সরবরাহ করা ওই জ্বালানির একটি অংশ ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্কের অন্তত ১০টি গ্যাস স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সরবরাহকারীর বকেয়া পরিশোধ না করার সুযোগ নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি বাজারে অস্বাভাবিক কম দামে পেট্রোল বিক্রি করে প্রচার পেতে সক্ষম হয়েছিল।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দ কাজমি ও কেআরএসএমের আইনজীবী পল টোনার। তার দাবি, এটি কোনো প্রতারণা নয় বরং চালানে মূল্যের ভুল হিসাব নিয়ে সরবরাহকারীর সঙ্গে বিরোধ। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজমি বা তার প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়া ও নিউজার্সির ২৫টি স্টেশনে প্রতি গ্যালন পেট্রোল ৩ দশমিক ৪৭ ডলারে বিক্রি শুরু করে ফ্রিডম ফুয়েল। দেশটির ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সম্মানে এই দর নির্ধারণ করা হয়। সে সময় ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ‘একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমান খুচরা বিক্রেতা তেলের দাম কমাতে এগিয়ে এসেছে। তাদের দেখে অন্যদেরও শেখা উচিত। দেশকে ভালোবাসে বলেই তারা এটি করছে।’

আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, কাজমি ভাইদের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতারণা ও ঋণখেলাপির অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। সর্বশেষ মামলার শুনানিতে বিচারক কাজমি ও তার প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকে অন্তত ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এএম