চীন-নেপাল সীমান্তে হ্রদের পানি কমছে; কাটছে দ্বিতীয় দফা বন্যার ঝুঁকি

চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট দুটি কৃত্রিম হ্রদের একটির উপগ্রহ চিত্র
চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট দুটি কৃত্রিম হ্রদের একটির উপগ্রহ চিত্র | ছবি: সংগৃহীত
0

চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদটি আকারে ছোট হয়ে আসায় তা ভেঙে প্লাবনের আশঙ্কা কমেছে। গতকাল (শনিবার, ২৯ আগস্ট) চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হিমবাহ ধসে ওই সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে তিব্বত ও নেপাল সীমান্তের দুই নদীর সংযোগস্থলে পুরেপু সাংপো নদীর ওপর সৃষ্ট হ্রদটির পানি স্বাভাবিক গতিতে বের হয়ে যাচ্ছে। গতকাল (শনিবার, ২৯ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে ৯৯ হাজার বর্গমিটারে নেমে এসেছে, যা বৃহস্পতিবারের চেয়ে ২১ হাজার বর্গমিটার কম। শনিবার বিকেলে হ্রদটির তলদেশের কিছু অংশ দৃশ্যমান হতে শুরু করে।

গত বুধবার হিমালয়ের ওপর থেকে বরফ, পাথর ও কাদার তীব্র স্রোত নেমে এসে তিব্বত ও নেপালকে সংযোগকারী জিরং সীমান্ত বন্দর লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই হ্রদে জমে থাকা পানির কারণে উপত্যকায় দ্বিতীয় দফায় প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হ্রদের পানি নেমে যাওয়ায় ভাটি অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা এখন তুলনামূলক নিরাপদে চালানো সম্ভব হবে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পানি পুরোপুরি নিষ্কাশিত হলে ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে যাবে। রাষ্ট্রীয় উদ্ধার ও প্রকৌশল সংস্থা চায়না আননেং ড্রোন ও রাডারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

তবে হিমবাহ ধসের পাদদেশে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের আরেকটি জলাশয়ের উপস্থিতি চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র প্রকৌশলী চেন হোংকি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি এর আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের বেশি, তবে এর গভীরতা এখনো জানা যায়নি।’ নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি জলাশয়ের পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত প্লাবনের শঙ্কা পুরোপুরি দূর হচ্ছে না।

এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। জিরং সীমান্ত পারাপার এলাকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চীন অংশে এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এলাকাটি থেকে প্রায় ৫০০ স্থানীয় বাসিন্দা ও ৫৫৫ জন পর্যটককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির স্কুল অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডিন বেনজামিন হর্টন বলেন, ‘ভূমিকম্পের কারণে নাকি তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে এই বিপর্যয় ঘটেছে, তা আমরা এখনো নিশ্চিত নই।’ ল্যাংটাং লিরুং পর্বতচূড়ার কাছাকাছি হিমবাহ ভেঙে এই ভূমিধসের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

এএম