সুইজারল্যান্ডে রেভ পার্টিতে গুলিতে তরুণী নিহত, আহত ৫

সুইজারল্যান্ডের আরাউ শহরে পুলিশের বড় ধরনের অভিযান চলছে
সুইজারল্যান্ডের আরাউ শহরে পুলিশের বড় ধরনের অভিযান চলছে | ছবি: রয়টার্স
0

সুইজারল্যান্ডের আরাউ শহরে একটি রেভ পার্টিতে গুলির ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। হামলাকারীকে ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়। আহত চার পুরুষ ও এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বয়স ২৪ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর।

বিবিসি নিউজকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিহত তরুণী ইতালির নাগরিক ছিলেন। তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সুইজারল্যান্ডে থাকা ইতালির দূতাবাস ও জুরিখের কনস্যুলেট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে আরগাউ ক্যান্টন পুলিশের মুখপাত্র বার্নহার্ড গ্রাসার বলেন, হামলাকারী বা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলাকারীরা আরাউ শহরে নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত পেরিয়ে রোববার ভোর সাড়ে দুইটার দিকে আরাউয়ের শাখেন ঘোড়দৌড়ের মাঠে গুলির খবর পায় তারা। সেখানে একটি টেকনো রেভ পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের ধারণা ছিল, এতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষ অংশ নেবেন।

একজন ডিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, রাত দুইটায় তার পরিবেশনা শেষ হওয়ার পরপরই গুলির ঘটনা ঘটে। আরেক শিল্পী ডিজে টেকিবো জানিয়েছেন, ঘটনায় তার এক বন্ধু নিহত হয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যম ব্লিককে বলেন, রাত সাড়ে দুইটার দিকে সংগীত বন্ধ হওয়ার কয়েক মিনিট পর তিনি হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তিনি সেটিকে আতশবাজির শব্দ মনে করেছিলেন। পরে এক ব্যক্তি ও এক নারী তাকে লুকাতে বলেন। ওই নারী গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার পর ঘোড়দৌড়ের মাঠ, শহরের সুইমিং পুল ও ক্রীড়ামাঠের আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরাউ শহরের বাইরেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের আরগাউ ক্যান্টনের রাজধানী আরাউ জুরিখ থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ঘটনাস্থলের আশপাশে সশস্ত্র পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরা কর্মকর্তাদের টহল দিতে দেখা গেছে। একটি সাঁজোয়া যান দিয়ে একটি সড়কও বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণে সুইস সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার ছবি ও ভিডিও থাকলে তা জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে দেশটিতে এ ধরনের সহিংস গুলির ঘটনা বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর বিধিনিষেধও চালু করা হয়েছে।

এএম