নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বিধ্বংসী বন্যার কারণ ছিল হিমবাহ ধস। ৭ হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত হিমালয়ের লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের হিমবাহটি প্রথমে ভেঙে প্রায় ১৫০০ মিটার নিচে নেমে আসে। হিমবাহের বরফ, কাদা ও পাথরের স্রোত নিয়ে পাহাড়ি ঢলটি উপত্যকার দিকে প্রচণ্ড বেগে অগ্রসর হয়। উচ্চতা কমার সঙ্গে সঙ্গে এর গতি বেড়ে বিধ্বংসী রূপ নেয়।
গেল ৬০ বছরে চীনের হিমবাহ এলাকা ৬১ হাজার থেকে কমে ৩৯ হাজার বর্গ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। হিমবাহগুলো দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। হিমবাহ গলে যাওয়ায় এসব অঞ্চলের প্রায় ১৪ হাজার হ্রদের মোট আয়তন ১১শ' বর্গ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বর্তমানে হিমালয়ের ১০০-এর বেশি হিমবাহ হ্রদ উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। চীনের একাডেমি অব সায়েন্সেসের বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে এই ধরনের হিমবাহজনিত দুর্যোগ আরও ঘন ঘন এবং মারাত্মক হয়ে উঠছে।
জিরং বন্দরে বিধ্বংসী দুর্যোগের পর বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে চীন। হিমবাহ-সম্পর্কিত দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী পূর্বাভাস এবং উন্নত সমন্বিত ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, নেপালের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান, পর্যবেক্ষণ এবং যৌথভাবে উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানিয়েছে চীন।
এদিকে, আন্দিজ পর্বতমালার ৫২৮টি হিমবাহ হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পেরুর বিশেষজ্ঞরা। তাদের সতর্কতবার্তা, দ্রুত বরফ গলে যাওয়ায় এসব অঞ্চলেও যেকোনো সময় নেমে আসতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্দিজ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত হুয়ারাজ শহরের পালকাকোচা হ্রদে বন্যা দেখা দিলে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে কয়েক হাজার মানুষ। ফলে, নেপালের দুর্ঘটনার পর চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন বাসিন্দারা।
অন্যান্য দেশের তুলনায় পেরুতে হিমবাহ-সৃষ্ট দুর্যোগ সাধারণত বেশি হয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদগুলো থেকে পানি নিষ্কাশন ও আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ দুর্যোগের ঝুঁকি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।





