কারাগারের অন্ধকূপে নিঃসঙ্গতা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিলো পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। আশঙ্কা করছিলেন এই একাকীত্বই কেড়ে নেবে প্রাণ। অবনতি হচ্ছিলো স্বাস্থ্যের। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সান্নিধ্য না পাওয়া, সংবাদপত্র-বই থেকে বিচ্ছিন্নতা- আর সইতে পারছিলেন না কারাবন্দী এই নেতা। কারা কর্তৃপক্ষের এমন একরোখা আচরণে, আদালতের দ্বারস্থ হন ইমরানের বোন আলিমা খান। আলাদাভাবে মামলা দায়ের করেন বুশরা বিবির মেয়ে মানেকাও।
অবশেষে, ইমরানের পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং স্ত্রী বুশরা বিবির নির্জন কারাবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। কারা আইন অনুযায়ী নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে দিতে হবে স্বামী-স্ত্রীকে। নিয়মমাফিক দেখা করতে পারবেন পরিবারের সদস্যরা। সন্তানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে দিতে হবে ইমরান খানকে। মৌলিক ও আইনি অধিকারগুলোর মধ্যে প্রতিদিন খবরের কাগজ ও বই সরবরাহ এবং সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, আদিয়ালা জেলের সুপারিন্টেনডেন্টকে এসব নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে।
যদিও আদালতের রায়ে পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছেন না ইমরানের পরিবার, পিটিআই নেতা ও সমর্থকরা। বোন আলিমা খানের অভিযোগ, অতীতে আদালতের বহু নির্দেশ কার্যকর হয়নি সরকারের অদৃশ্য আঙ্গুলের ইশারায়।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা আমলে নিয়ে গেল মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে কিছু দিনের জন্য স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাকে নেয়া হয় সরকারি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে আবারও আদিয়ালা কারাগারে। এর জেরে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অবমাননার অভিযোগ এনে পিটিশন দায়ের করেন বোন ড. উজমা খান। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চের সামনে মামলার শুনানি। তাই, এবারেও আদালতের নির্দেশ সরকার মানবে কী না সে নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না।





