প্রতি বছরে ২ কোটির বেশি শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের শিকার: ইউনিসেফ

ইউনিসেফের লোগো
ইউনিসেফের লোগো | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বের ২১টি দেশে প্রতি পাঁচজন শিশুর অন্তত একজন প্রযুক্তিনির্ভর যৌন নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোয় ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি শিশু তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও যৌন উদ্দীপক কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে জোরপূর্বক যৌন কথোপকথনে অংশ নিতে বা ছবি পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া ৪০ লাখ শিশুর যৌন ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ২ কোটিরও বেশি শিশু কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে শোষণের শিকার হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এক বেদনাদায়ক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। যে ডিজিটাল স্পেসে শিশুরা পড়াশোনা করে, খেলাধুলা করে এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, সেখানেই তারা অবাঞ্ছিত যৌন কনটেন্ট বা শোষণের শিকার হচ্ছে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, শোষণের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ১৪ শতাংশ ঘটেছে অনলাইন গেমে। প্রায় ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা প্রথম অনলাইনে এসব অপরাধীর মুখোমুখি হয়। আবার ৫৭ শতাংশ ঘটনায় শিশুদের পরিচিত ব্যক্তি, সহপাঠী, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যরা জড়িত ছিল। মন্টিনিগ্রোতে শোষণের ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটেছে।

প্রযুক্তিনির্ভর যৌন শোষণের শিকার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এসব শিশুর আত্মহত্যার চিন্তা ও নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা সাধারণ শিশুদের তুলনায় চার গুণ বেশি। পাকিস্তানে নির্যাতিত শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি সাত গুণেরও বেশি।

তবে নির্যাতনের ৪০ শতাংশের বেশি ঘটনা কাউকেই জানানো হয়নি এবং ১ শতাংশেরও কম ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে। কোথায় সাহায্য চাইতে হবে, তা না জানার কারণেই অধিকাংশ শিশু চুপ করে থাকে।

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘এসব অভিজ্ঞতা গভীর মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করে। অনেক শিশু নীরবে ভোগে, সাহায্যের জন্য কোথায় যাবে তা জানে না। আমরা এদিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না।’

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশু সুরক্ষায় শক্তিশালী ব্যবস্থা নেয়া, সরকারকে জবাবদিহি বাড়ানো এবং সমাজে ক্ষতিকর জেন্ডার নর্ম ভাঙার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এএম