মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আন্তর্জাতিক এই সিন্ডিকেটের মূল কারবারি হা দান নাম রয়েছেন। তদন্তকারীরা জানান, তিনি ফ্রান্স থেকে ভিয়েতনামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাদক আনার পুরো নেটওয়ার্ক সমন্বয় করতেন। ২০২৩ সালের মার্চে প্যারিস থেকে হো চি মিন সিটিতে আসা ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের চারজন কেবিন ক্রুর কাছ থেকে ১৫৭টি টুথপেস্টের টিউবে ১০ কেজির বেশি মাদক উদ্ধারের পর এই মামলার সূত্রপাত হয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই কেবিন ক্রুরা অজান্তে এসব বহন করছিলেন, যার ফলে তাদের বিচারে অভিযুক্ত করা হয়নি।
আদালতের নথিসূত্রে জানা যায়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য, ডিটারজেন্ট, মাউথওয়াশ ও কফির ভেতরের খালি জায়গায় অতি সতর্কতার সঙ্গে এসব মাদক লুকিয়ে রাখা হতো। ফ্রান্সে বসবাসরত বা অধ্যয়নরত ভিয়েতনামী নাগরিকদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এসব পণ্য আকাশপথে ও কুরিয়ার সার্ভিসে ভিয়েতনামে পাঠানো হতো। আন্তর্জাতিক এই চক্রটি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং লেনদেনের জন্য ভুয়া নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত।
প্রসিকিউটররা জানান, সম্পূর্ণ সচল থাকা অবস্থায় এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ২৯ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামী দং বা প্রায় ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। মামলায় আরও প্রায় ২০ জনকে অবৈধ মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ভিয়েতনামে এক হাজারের বেশি আসামি বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সম্প্রতি মাদক পাচারসহ ছয়টি অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিলের একটি প্রস্তাব দেশটির সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।





