আর কয়েকদিন পরই সনাতনী বাঙালির বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা। আসন্ন এই উৎসব ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রস্তুতি তুঙ্গে। চলছে প্রতিমা গড়া, মণ্ডপ সজ্জা ও কেনাকাটা। কিন্তু এসব ছাপিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আলোচনায় দুর্গাপূজা উদযাপনে রাজ্য সরকারের নতুন বিধিনিষেধ।
ডিজে ও উচ্চশব্দের সাউন্ড সিস্টেম নিষিদ্ধ করা, মহাঅষ্টমীতে রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি বন্ধ, মহালয়ার আগে মণ্ডপ উদ্বোধন না করা, রেড রোড কার্নিভাল বাতিলসহ আর্থিক অনুদান নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ ও নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। যদিও নতুন এই নির্দেশনাগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই।
বিজেপি নেতারা আশ্বস্ত করেছেন, এবার পূজায় আর্থিক সঙ্গতি সম্পন্ন কমিটিকে রাজ্য সরকারের অনুদান নেয়ার জন্য চাপ দেয়া হবে না। অথচ নিজদের স্বার্থের জন্য তৃণমূল সরকার বছরের পর বছর এই অনুদান নিয়ে রাজনীতি করেছে।
এছাড়াও, রেড রোড কার্নিভাল বন্ধ করে ইডেন গার্ডেন্সে বিকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য, কার্নিভালের নামে মাতৃপ্রতিমা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে ফেলে রাখা কোন সংস্কৃতি হতে পারে না। উল্লেখ্য, যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার দীর্ঘদিনের রীতি এ বছর বাতিল করেছিল রাজ্য সরকার।
২০১৬ সালে কলকাতাযর ঐতিহাসিক রেড রোডে ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব কার্নিভাল প্রথম চালু করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০ বছর পর এই শোভাযাত্রা বাতিল করায় চটেছেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়করা।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি সরকারের নতুন বিধিনিষেধের যাবতীয় ফাঁক-ফোকড় বের করে যাচ্ছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। সনাতনী ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতি পরিণত হয়েছে শক্ত রাজনৈতিক এজেন্ডায়।





