ইসরাইলি অবৈধ বসতির পণ্যে ৩ দেশের নিষেধাজ্ঞা, জবাবে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা তেলআবিবের

ব্রিটিশ কনস্যুলেটে উড়ছে পতাকা
ব্রিটিশ কনস্যুলেটে উড়ছে পতাকা | ছবি: রয়টার্স
0

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে গতকাল (মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার জানান, গাজায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশন থেকেও যুক্তরাজ্যকে বাদ দেয়া হবে। পাশাপাশি সাবেক লেবার পার্টি নেতা জেরোমি করবিনসহ বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও নাগরিকের ইসরাইলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগ তোলেন। একে ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে গিদন সার বলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ নৈতিকভাবে বিকৃত এবং এটি ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কার্যালয় হিসেবে স্বীকৃত।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, দুই রাষ্ট্র সমাধান রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা করবেন তারা। ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ আরও নয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলাদা যৌথ বিবৃতিতে দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, অবৈধ বসতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ওয়াশিংটন এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেবে না, কারণ এটি পশ্চিম তীরকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে মূলত খেজুর, লেবুজাতীয় ফল, ভেষজ ও মদ রপ্তানি করা হয়, যা ইসরাইলের মোট রপ্তানির খুবই সামান্য অংশ। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেকটাই প্রতীকী। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধান র্যাবাই এফ্রাইম মির্ভিস সরকারের এই নীতির সমালোচনা করে এক্সে লিখেছেন, এটি ব্রিটিশ ইহুদিদের জন্য একটি কালো দিন।

এএম