সিরিয়ার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথে ইয়েমেন, শঙ্কা পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধের

অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের সশস্ত্র যোদ্ধরা
অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের সশস্ত্র যোদ্ধরা | ছবি: সংগৃহীত
0

সিরিয়া যুদ্ধের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথে ইয়েমেন। শঙ্কা আছে, ইয়েমেনি সরকার আর হুথিদের ঘাত-প্রতিঘাতে দেশটিতে আবারও শুরু হতে পারে পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেন সরকারের সমর্থক সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ইঙ্গিত করে, দীর্ঘ এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী সানা দখল ছাড়াও সংঘাতের মূলে লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেয়া।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় আট বছরের সংঘাতের ইতি ঘটলেও, ২০২২ সালের পর আবারও ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইয়েমেন। রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও ইয়েমেনি সরকার ও হুথিদের এই দ্বৈরথের মূলে বাণিজ্যিক জলপথ লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেয়া। এছাড়াও, হরমুজ প্রণালির দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বিরোধ ইয়েমেন পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানী সানা পুনর্দখলের জন্য একাধিক ফ্রন্টে ব্যাপক অভিযান, পাল্টা অভিযান শুরু করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার। গেল ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ঘাত-প্রতিঘাত চলতি সপ্তাহে আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে তায়িজ, আল-বায়দা এবং আল-জাওফ প্রদেশে তুমুল যুদ্ধ চলছে, যা সানায় প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত।

কারাগারে হামলা এবং সরকারি বাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধে মঙ্গলবার সৌদি আরবে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। আবহা, নাজরান ও জিজান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো এবং কিং খালিদ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেনে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আলামত দেখা যাচ্ছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র এই দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর লোহিত সাগরে বাব এল মান্দেব দখলে হুথিদের তৎপরতা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বাদ দিলেও সহসাই শেষ হচ্ছে না এই সংঘাত। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনি সরকার ও হুথি- দুই পক্ষই মনে করে, তারা সামরিকভাবে জয়ী হতে পারবে। এই মানসিকতা শান্তি আলোচনা বা রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিরে পারে।

ইএ