ইয়েমেনের মোখা বন্দর হুথিদের দখলে; বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে নতুন বিপর্যয়

হুতিদের সঙ্গে সংঘর্ষে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী
হুতিদের সঙ্গে সংঘর্ষে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী | ছবি: রয়টার্স
0

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইয়েমেনের বন্দর নগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুথিদের এই দ্রুত অগ্রযাত্রার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে নতুন করে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মোখা দখলের পর হুথিরা লোহিত সাগরের হানিশ দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়েছে। বিপরীতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ধুবাব এলাকার দিকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ইতোপূর্বে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব তাদের চালানের জন্য লোহিত সাগরের এই পথটিই ব্যবহার করছিল। হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের মালিকানাধীন জাহাজ ছাড়া অন্যান্য সব বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য লোহিত সাগরে চলাচল নিরাপদ থাকবে।

ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন, এই অঞ্চলটির সংঘাত এখন একটি নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক ধাপে প্রবেশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক স্বাধীন নৌচলাচলের জন্য মারাত্মক হুমকি। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, হুথিরা মূলত ইরানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের সব দায় তাদেরই নিতে হবে।

লোহিত সাগরে হামলা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। ট্রাম্প বলেন, ‘আবার সুযোগ পেলে আমি ঠিক এই পদক্ষেপই নিতাম।’ তিনি আবারও দাবি করেন যে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। অন্যদিকে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট কর্মসূচির আওতায় ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এএম