হঠাৎ করে হুথি-সৌদি সংঘাত তীব্রতর হওয়ায়, বিশেষ করে লোহিত সাগর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় নতুন মোড় নিয়েছে ইরান যুদ্ধ।
একদিন আগেই জানা যায়, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কিন্তু এতে রাজি হননি ট্রাম্প। এবার জানা গেলো, সংঘাতে হস্তক্ষেপ করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছিল ওয়াশিংটনে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হুথিরা আমাদের ফোন করেছিল এবং তারা আমাদের সাথে যুদ্ধ চায় না। তারা জানিয়েছে যে তারা আমাদের সাথে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা চায় না আমি বা আমরা তাদের পিছু নিই। তারা ফোন করেছে, আমাদের সাথে কথা বলেছে। আমরা যেন যুদ্ধে না জড়াই, সেটাই তাদের দাবি। হুথিরা বেশিরভাগ জাহাজকে যেতে দিচ্ছে। একটি মাত্র দেশকে নিয়ে তারা খুব একটা খুশি নয় এবং আমরা সেটারও সমাধান করে ফেলব।
গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেবসহ লোহিত সাগরের চেকপয়েন্টগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ও সৌদি আরব। বিকল্প পথ নেই বলে সাগরের সরু পথের এসব পয়েন্টে বাধা ঝুঁকিতে ফেলে বিশ্ববাণিজ্য ও অর্থনীতিকে। হামলা-পাল্টা হামলার এ পর্যায়ে সৌদি আরবের দক্ষিণে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলারও দাবি করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির আকস্মিক এই উত্থানকে 'ঐশ্বরিক বিজয়' আখ্যা দিচ্ছে তেহরান। যদিও হুথিদের শত্রু- সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চান না ইরানের প্রেসিডেন্ট।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সৌদি আরবের সাথে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই। হুথিদের নিজস্ব সমস্যা আছে। আমি বারবার বলেছি যে, এই অঞ্চলের সব দেশের উচিত একসাথে বসে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের একে অপরের সাথে যুদ্ধ বা সংঘাতে জড়িয়ে থাকার কোনো যুক্তি বা কারণ নেই।
এদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে এখনই জাহাজ চলাচল বন্ধ না হলেও অচিরেই খুলে দেয়ার পরিকল্পনা নেই বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীও। হরমুজের পরিবর্তে জাহাজ চলাচলের বিকল্প পথ নির্ধারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে ওমানে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান।
এমন পরিস্থিতিতেই হরমুজ প্রণালীতে রোববার নতুন করে হামলার খবর জানায় ব্রিটিশ নৌবাহিনী। একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেলেও ক্ষয়ক্ষতি এবং নাবিকদের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। এদিন, হরমুজে ইরানের কিশম দ্বীপেও শোনা যায় মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ। একদিন আগেই সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়ার পর সবমিলিয়ে নজিরবিহীন সংকটে জ্বালানি খাত।





