সৌদি তেল পাইপলাইন বন্ধ; বাজারে নতুন ধাক্কার শঙ্কা

স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবি
স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন সরবরাহসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই অস্থির বাজারে এতে জ্বালানি তেল, পেট্রোল, ডিজেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক সৌদি আরব শুক্রবার পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। রিয়াদের অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের ড্রোন হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, মেরামতকাজে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহ লাগতে পারে।

প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের পারস্য উপসাগর–সংলগ্ন তেল প্রক্রিয়াকরণ এলাকা থেকে পশ্চিমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল নিয়ে যায়। সেখান থেকে ট্যাংকারে করে তেল ইউরোপে যায় সুয়েজ খাল হয়ে, আর এশিয়ার পথে যায় বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ১৯৮০-এর দশকে পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হয়। চলমান ইরান যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসেও হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল প্রায় স্থবির থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ সচল রাখতে এই পাইপলাইন বড় ভূমিকা রাখছিল।

রাইস্টাড এনার্জি জানিয়েছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে দৈনিক গড়ে ২৬ লাখ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল এই পাইপলাইন দিয়ে ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছাচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এই সরবরাহ এখন বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

হরমুজ প্রণালি এখনো সীমিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে যেত। তবে বর্তমানে চলাচল অনেক কম। মেরিটাইম ডেটা প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হরমুজে ৯০টি জাহাজ চলাচল করেছে। যুদ্ধের আগে দৈনিক প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই পথে যেত।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় সৌদি তেল রপ্তানি আরও ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল যেত; এখন তা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরবরাহসংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে দামে পড়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে ওঠে। নাইজেরিয়ায় ফেব্রুয়ারির শেষের তুলনায় ডিজেলের দাম ৯২ শতাংশ ও পেট্রোলের দাম প্রায় ৬১ শতাংশ বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও লেবাননেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ৩২ ডলার, যা যুদ্ধের আগের ২ দশমিক ৯৮ ডলারের চেয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও সরবরাহব্যবস্থার খরচ বেড়ে যায়। ফলে খাদ্য, সার ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।

এএম