গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর পর এটি বেইজিংয়ে আরাঘচির দ্বিতীয় সফর। সংঘাত নিরসনে চীন নিজেদের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তেহরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে চীনের এই পদক্ষেপ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ শি জিনপিংয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, বহুপাক্ষিক কূটনীতিই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর একমাত্র পথ। তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনবিষয়ক গবেষক হামেদ ওয়াফায়ি সতর্ক করে বলেছেন, চীনের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি মধ্যস্থতার প্রস্তাব হিসেবে ধরে নেয়া ঠিক হবে না।
বৈঠকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং পশ্চিমা বিশ্বের নতুন চাপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের চাপে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার ভেটো দেয়ার ক্ষমতা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নতুন কোনো কড়া প্রস্তাব পাস করা কঠিন হবে।
এদিকে ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে বেইজিং। মার্কিন সরকার ইরানের তেলের বাণিজ্য বন্ধ করতে চীনা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও চীনের বড় ব্যাংকগুলো এখনো এর বাইরে রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানের বাহিনী চীন থেকে পাওয়া কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করেছিল। তবে এ নিয়ে বড় কোনো বিতর্ক তৈরি করতে চাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর নজরদারি করছে বললে বলব ঠিকই আছে, আমরাও তো তাদের ওপর নজরদারি চালাই।’





