পরিকল্পিত এই বৈঠকটি আগামী বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও রাশিয়ার সোভারেন ওয়েলথ ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ অংশ নেবেন। অন্যদিকে এএফডির পক্ষে থাকবেন দলের দুই শীর্ষ সহ-সভাপতি অ্যালিস ওয়াইডেল ও তিনো ক্রুপাল্লা। তবে মূল বৈঠকটি আলোর মুখ দেখার আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট শান্তি ফ্রেমওয়ার্ক বা চুক্তিতে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই শীর্ষ সম্মেলনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত বা ইসরাইলের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আক্রমণের পর ইউরোপের ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার আগে জার্মানির গ্যাস চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি জোগান দিত রাশিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জার্মান অর্থনীতি নজিরবিহীন মন্দার মুখোমুখি হয়। এএফডির সহ-সভাপতি অ্যালিস ওয়াইডেল স্পষ্ট ভাষায় রয়টার্সকে জানান, উচ্চ জ্বালানি মূল্যের সংকট থেকে জার্মানির শিল্প খাতকে বাঁচাতে রাশিয়ার সস্তা গ্যাস আমদানির ওপর থেকে বয়কট তুলে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
তবে জার্মানির মূলধারার রাজনীতিকেরা এই সম্ভাব্য বৈঠককে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। জার্মানির সাবেক জ্বালানিনীতি বিষয়ক গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতা মাইকেল কেলনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জার্মানি কোনোভাবেই নতুন করে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। পুতিন এএফডিকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করছেন।’ ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটদের পার্লামেন্ট সদস্য রোদেরিখ কিয়েসেওয়েটারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নর্ড স্ট্রিম পুনরায় চালুর যেকোনো উদ্যোগ ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং জার্মানিকে মিত্রদের থেকে নিঃসঙ্গ করে দেবে।





