এক মাস পেরিয়ে গেলেও বন্ধ হোটেলগুলো কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে সামনে দুর্গাপূজার মৌসুম ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ থাকলেও কলকাতায় পর্যটকদের আনাগোনা কমেনি। বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা, পর্যটন ও চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই অনেকে কলকাতায় যাচ্ছেন। তবে পর্যাপ্ত হোটেল না থাকায় অনেক পর্যটক নিউমার্কেট এলাকা এড়িয়ে আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন। আর নিউমার্কেট এলাকায় যারা থাকছেন, তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
পর্যটকদের অভিযোগ, আগে যে রুম ৮০০ রুপিতে পাওয়া যেত, এখন সেটির ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজারে। ফলে অনেকেরই আবাসন খরচ বাজেটের বাইরে চলে গেছে।
পর্যটকরা জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতায় এসে হোটেল না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। হোটেল পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেক সময় তা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
নিউমার্কেটের হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাকি হোটেলগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা যুক্তিসংগত নয় বলে দাবি তাদের। হোটেল বন্ধ থাকায় শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের মানুষও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, হোটেল ব্যবসার সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিউমার্কেট গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা।
প্রতিবছর দুর্গাপূজার মৌসুমে পর্যটকদের আগমনে জমজমাট হয়ে ওঠে কলকাতার নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকা। তবে এবার হোটেল বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের সেবা দিতে না পারায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা নিউমার্কেট এলাকায় এসে হোটেলে থাকতে না পারায় তারাও হতাশ হচ্ছেন।
সংকট সমাধানে নিউমার্কেটের ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কলকাতা পৌরসভার কর্মকর্তাদের প্রথম দফার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
দুর্গাপূজার আগেই বন্ধ হোটেলগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, নিউমার্কেট এলাকায় পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই দ্রুত হোটেলগুলো চালুর ব্যবস্থা না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।





