মিথ্যা দাবি থেকে আর্থিক প্রলোভন: নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের বহুমুখী বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

নাইন-ইলেভেন নিয়ে মিথ্যাচার, কংগ্রেসে আধিপত্য ধরে রাখতে ভোটারদের আর্থিক প্রলোভন, ডেমোক্র্যাট শাসিত রাজ্যগুলোতে অনুদান বন্ধ ও তিনটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের হোয়াইট হাউজে নিষেধাজ্ঞা- গেল ১২ দিন এমন অনেক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্র ২ বছরের শাসনমালে ভোটারদের মনে রিপাবলিকানদের সম্পর্কে যে ভুল ধারণা জন্মেছে; তা দূর করতে ট্রাম্পের উদ্যোগ খুবই নগণ্য, যা আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড দিয়ে খবরের শিরোনাম হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মজার ছলে কিংবা হুমকি; গেল ১২ দিনে ট্রাম্পের গতিবিধির আদ্যোপান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেছে সদ্য ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার খড়গে পড়া মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেই ট্রাজেডি নিয়ে একটি গল্প শেয়ার করেন ট্রাম্প। দাবি করেন, হামলার পরপরই তিনি যখন ক্ষয়ক্ষতির শিকার লোয়ার ম্যানহাটনের আকাশচুম্বী ভবন ওয়ান লিবার্টি প্লাজা পরিদর্শনে যান, তখন দুজন দমকলকর্মী তাকে ভবন ধসের শঙ্কায় সেখান থেকে বের করে আনেন। যদিও তার দাবির স্বপক্ষে কোনো যুক্তি খুঁজে পায়নি সিএনএনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল। গণমাধ্যমটি বলছে, টুইন টাওয়ার হামলার সময় ট্রাম্প বহু মাইল দূরে মিডটাউন ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে ছিলেন।

এছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বিতর্কের পালে হাওয়া লাগিয়েছে ভোটারদের মন কাড়তে আর্থিক প্রলোভনের প্রচারণা। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেয়া হবে। তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে মন গলেনি মার্কিন নাগরিকদের। বরং রয়টার্স- ইপসোস এর জরিপ বলছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৬৬ শতাংশ ট্রাম্পের এমন প্রস্তাবকে 'অনুপুযুক্ত বলেছেন', আর পক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৮ শতাংশ।

এছাড়াও, মজার ছলে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরকে ভোট না দিতে মার্কিন নাগরিকদের হুমকিও দিচ্ছেন ট্রাম্প। নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলে রাজ্যটিতে দুর্যোগের সময় সহায়তা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন তেন। এমনকি কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম জাহির করতে সম্প্রতি ট্রাম্পের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে আদালতের ওপরও। হুঁশিয়ারি দেন, স্থাপনাটিতে নিজের নাম যুক্ত করতে আদালত অনুমতি না দিলে কেনেডি সেন্টারকে অকার্যকর করা হতে পারে।

এছাড়াও, ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার নির্বাচনি জনসভায় ট্রাম্প নিজের ওপর হত্যাচেষ্টাকে 'ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র' বলে দাবি করেন। তবে তার এই দাবির পক্ষেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেননা অভিযুক্ত হামলাকারী থমাস ক্রুকস নিবন্ধিত রিপাবলিকান ছিলেন। এমনকি এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও জানিয়েছেন, ক্রুকস অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতেন- এমন কোন প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

আর শুক্রবার সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও'য়ের মতো তিনটি জনপ্রিয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউজে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে; বিতর্কের ষোলকলা পূর্ণ করেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্র ২ বছরের শাসনামলে ভোটারদের মনে রিপাবলিকানদের সম্পর্কে যে ভুল ধারণা জন্মেছে; তা দূর করতে ট্রাম্পের উদ্যোগ খুবই নগণ্য, যা আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে।

ইএ