কানাডার বৈদেশিক নীতিতে বড় পরিবর্তন এখন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক ঢের শক্ত করছে অটোয়া। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ কানাডিয়ান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই সমর্থন বেড়েছে ছয় শতাংশ। তলানিতে ঠেকেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা।
এক নারী বলেন, ‘সহজে ভ্রমণ করতে পারবো। ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য জটিলতা কমবে।’
আরেকজন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার আর বন্ধু নেই আমাদের। বিশেষ করে ট্রাম্প।’
অন্য আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিসের সমঝোতা? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর সমঝোতা চলে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই পথ রাখেননি।’
এর মধ্যেই নিউ ইয়র্কে গেলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন না কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার সফরের মূল লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কানাডার নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব পাকাপোক্ত, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, ইউক্রেনের প্রতি কানাডার সমর্থন জোরদার এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ও সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।
এরই মধ্যে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানালেও জোর দিচ্ছেন বাস্তব সহযোগিতার ওপর। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ ও প্রযুক্তি— এসব খাতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় কানাডা। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি কঠিন নয়। কারণ কানাডা ও ইউরোপের এরই মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-সিইটিএ রয়েছে। ২০১৭ সালে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর কানাডার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে চুক্তির আগের সময়ের তুলনায় দুই পক্ষের পণ্য বাণিজ্য বেড়েছে ৬৪ শতাংশ।
তবে সিইটিএ এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন পায়নি। তাই বিকল্প সম্পর্ক কতটা বাস্তব রূপ পায়, তার বড় পরীক্ষা আসছে অক্টোবরে। মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কানাডা-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই সহযোগী সদস্যপদের ধারণা বিষয়ে কাঠামো উঠে আসবে। কানাডিয়ানরা বলছেন, এটি কার্যকর হলে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপে পড়াশোনা, কাজ এবং যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ বাড়বে।
কবি, লেখক ও বিশ্লেষক আহমেদ সৈয়দ শাহনুর বলেন, ‘আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল বাণিজ্য, একইসঙ্গে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য ইউরোপ এবং কানাডায় পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ বাড়বে।’
তবে ইউরোপ কানাডার জন্য বড় বিকল্প বাজার হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা রাতারাতি নিতে পারবে না বলেও মত এই বিশ্লেষকের। কারণ প্রতিবেশী দুই দেশের অর্থনীতি, উৎপাদন ব্যবস্থা ও সরবরাহ-শৃঙ্খল অত্যন্ত গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই অটোয়ার লক্ষ্য ওয়াশিংটনকে ছেড়ে ইউরোপে যাওয়া নয়; বরং কানাডার হাতে আরও বেশি অর্থনৈতিক বিকল্প নিয়ে আসা।





