নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম

আসাদ আলম সিয়াম
আসাদ আলম সিয়াম | ছবি: সংগৃহীত
0

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তাকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন (এগ্রিমেন্ট) দিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সম্মতিপত্র হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে নিয়োগ আটকে রাখা হয়েছে বলে চলা গুঞ্জনের অবসান হল।

বিসিএস ১৫ ব্যাচের পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এদিকে নতুন পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

দিল্লি মিশনের জন্য প্রশাসনের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে বেছে নেয়ার কৌশলগত কারণ রয়েছে। ভারত সরকার সম্প্রতি তাদের সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর জবাবে বাংলাদেশও নয়াদিল্লিতে নিজেদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও শীর্ষ কূটনীতিককে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি ঢাকার জন্য অন্যতম কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে।

এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নিয়ে নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কূটনৈতিক প্রস্তুতি পরিচালনা করতে হবে।

আসাদ আলম সিয়াম ২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি অস্ট্রিয়া ও ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল এবং যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদে কাজ করেছেন তিনি।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অবলম্বনে

এএম