বুশরা ও অবন্তিকা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংগ্রহণ করলেও এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে লড়াইয়ের প্রতীক্ষায় তারা। তাদের সাথে পুরুষ জুডোকারাও দেখছেন একই স্বপ্ন।
তবে স্বপ্ন দেখলেই হয় না। তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন দীর্ঘদিনের অনুশীলন। এশিয়ার বাঘা বাঘা অ্যাথলেটরা যেখানে পদক জয়ের মিশনে লড়বেন সেখানে অংশ নিতে যাওয়ার আগে দেশের খেলোয়াড়দের ক্যাম্প চলছে জোড়াতালির মাধ্যমে।
বাংলাদেশের জুডো খেলোয়াড় খালেদুল হাসান মিলু বলেন, ‘আমাদের স্বর্ণপদক যদি হয়, তাহলে আমাদের ওইভাবে প্র্যাকটিস করতে হবে। দীর্ঘদিন বাইরে বা কোথাও প্র্যাকটিস করলে, ইনশাল্লাহ আমি আশা করি ভালো কিছু হবে।’
খেলোয়াড় আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত স্টেডিয়াম, প্লেয়ার হোস্টেল থাকে। সেদিক দিয়ে আমরা একটু পিছিয়ে আছি, বিশেষ করে জুডো—আমাদের কোনো নির্দিষ্ট ইনডোর নেই বা প্লেয়ার হোস্টেল নেই।’
এবারের গেমসে দেশ থেকে জুডো ইভেন্টে অংশ নিতে দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ অ্যাথলেট জাপানে যাবেন। যেখানে প্রতিপক্ষরা আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্স আর দীর্ঘমেয়াদী কোচের অধীনে প্রস্তুতি নিয়ে লড়াইয়ে মঞ্চে নামার অপেক্ষায় সেখানে বাংলাদেশের জুডোকারা কোনো আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বা ফেডারেশনে নয়- জায়গা স্বল্পতায় সাধারণ সম্পাদকের বাসা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সারছেন তাদের প্রস্তুতি।
নারী অ্যাথলেটদের থাকার পাশাপাশি পুরুষ খেলোয়াড়দের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদকের বাসভবনে। ফেডারেশন কর্তার এমন অনন্য উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও, গেমসের প্রস্তুতিতে কতটা কার্যকর হবে?
জুডো খেলোয়াড় অবন্তিকা হাসান বলেন, ‘আমরা যেহেতু সবসময় ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অভ্যস্ত, তো সেই ক্ষেত্রে এখানে আমাদের একটু ব্যতিক্রম। ওই ক্ষেত্রে মানে তখনকার যে মানসিক একটা জিনিস, ওই ওই জিনিসটা এখানে কাজ করে না। তো তারপরেও আমাদের প্রতি অনেক বেশি টেক কেয়ার করছে।’
আরও পড়ুন:
জুডো খেলোয়াড় ফাবিয়া বুশরা বলেন, ‘ক্ষোভ তো কাজ করবেই। কারণ এত বড় একটা এশিয়ান গেমসের মতো একটা জায়গায় যাব আমরা, যেখানে আমরা বাংলাদেশের একটা জায়গা না পাই, প্র্যাকটিস করার জায়গা না পাই, থাকার জায়গা না পাই, তাহলে আর কী হইল?’
বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নয়না চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আর্মি টিমের সঙ্গে প্র্যাকটিস করতে পারি—আমার চারটা ছেলে, চারটা মেয়ে হলে ওখানে আরও ধরেন ৩২ জন প্র্যাকটিস করে। আমার প্র্যাকটিসটা ভালো হতো। কারণ আর্মি টিমটাও বেশ স্ট্রং টিম। কিন্তু অলিম্পিক থেকে আমার চারটা ছেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, মেয়েদের জন্য উনারা হোস্টেল দিতে পারেননি। ন্যাচারালি তখন আমার বাসায় যেহেতু একটা রুম খালি আছে, আর ওরা মেয়ে—ওদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমাকে চিন্তা করতে হবে; ওইজন্যই আমার বাসায়ই আমি রাখার ব্যবস্থা করেছি।’
প্রতিযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব নতুন কিছু নয়। এশিয়ান গেমসের জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করার প্রয়োজন থাকলেও, ১৬ আগস্ট শুরু হয় অনুশীলন। যেটি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদকও।
তিনি বলেন, ‘এর আগে যারা ছিলেন, তারা নিজস্ব স্থাপনার ব্যবস্থা করতে পারেন নাই। অনুশীলন শুরু হয়েছিল। ওই জায়গা থেকে আমাদের ক্যাম্পটা যদি বন্ধ না হয়ে এতদিন কন্টিনিউ করত, আমার ধারণা আমাদের প্লেয়াররা কিছু না কিছু রেজাল্ট করত। এর আগের যে কমিটি ছিল, উনারা চেষ্টা করেছিলেন এই টিমটাকে থাইল্যান্ডে পাঠানোর জন্য। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার এই কমিটির পরিবর্তন হয়েছে, এইটা আর কন্টিনিউ করা সম্ভব হয়নি।’
সুযোগ-সুবিধার খাতা শূন্য রেখে শুধু বুকভরা আত্মবিশ্বাস আর এই অদম্য মানসিক শক্তিতে ভর করে এশিয়ার পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারবেন এই স্বপ্নসারথিরা, সময় গড়ালেই মিলবে তার উত্তর।





