রয়টার্সের পর্যালোচনায় উঠে আসা ৮ সেপ্টেম্বরের খসড়া বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। তাতে বলা হয়েছিল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার এই সিদ্ধান্তগুলো ইসরাইলবিরোধী একটি বৈরী পদক্ষেপ, যা প্রকারান্তরে সেমিটিজমে বা ইহুদিবিদ্বেষে ইন্ধন জোগায় এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির প্রভাবশালী সহকারী ডেভিড মিলস্টাইন এই খসড়া তৈরির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিবৃতিটি না আসার পেছনে কারণ হিসেবে জানা গেছে, হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব এতে সায় দেয়নি। পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের কোনো সমালোচনা না করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য এড়িয়ে যান। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিলেও মার্কিন প্রশাসন তেমন কিছু করছে না।
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি সরকারের অধীনে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়া কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস এবং ইসরাইলে নিযুক্ত ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তার অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন এবং ইসরাইলকে এই অঞ্চল নিজের সঙ্গে যুক্ত না করার তাগিদ দিয়েছিলেন।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে ইসরাইল। জাতিসংঘ এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সিংহভাগই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নির্মিত এসব ইসরাইলি বসতিকে অবৈধ মনে করে। বর্তমানে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৫ লাখ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। চলতি বছর এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।





