সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের লোগোসহ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভবন
জাতিসংঘের লোগোসহ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভবন | ছবি: সংগৃহীত
0

সরবরাহ সংকট ও পরিবহন অনিশ্চয়তায় গেলো সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যা বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কিছু খাদ্যশস্যসহ চিনি ও ভোজ্যতেলের। এদিকে, ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ শতাংশে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অকৃষি খাতে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, বেড়েছে বেকারত্বের হার।

জলবায়ু পরিবর্তনে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাহত হচ্ছে শষ্য উৎপাদন। এরমধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি ও কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আরও তীব্র হয়েছে খাদ্য সংকট। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম। যা উস্কে দিচ্ছে সার্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে।

সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা। ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৯৮ কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দর ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের মাসভিত্তিক দাম কমলেও বেড়েছে নির্ধারিত কিছু খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেলের।

জাতিসংঘের মুখপাত্র জানান, গেলো বছরের একই মাসের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, ‘চিনি, শস্য ও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সেপ্টেম্বরে পণ্যের দাম বেড়েছে। শস্যের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং গমের দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে অন্যতম কারণ কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হওয়া। সরবরাহ সংকট ও হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তায় ভুট্টার দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।’

আরও পড়ুন:

জ্বালানি খরচ বাড়ায় সেপ্টেম্বরে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইইউর পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরে এই অঞ্চলে জ্বালানির দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ক্রমবর্ধমান জ্বালানির উচ্চ দামে নাজেহাল যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা। দেশটির জ্বালানি গবেষণা সংস্থার আশঙ্কা ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। এতে ব্রিটিশ পরিবাগুলোর বার্ষিক গড় জ্বালানি খরচ ১ হাজার ৭০০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২ হাজার পাউন্ডে দাঁড়াবে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি, আবাসন ও পরিবহন খরচের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে গ্রিসের পরিবারগুলোকে। এমন অবস্থায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, করছাড়সহ ৪ বছরমেয়াদি সহায়তামূলক প্যাকেজ চালু করেছে গ্রিস সরকার। তবে সরকারের এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে দাবি ভোক্তাদের।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অকৃষি খাতে সেপ্টেম্বরে ২৯ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। একই সঙ্গে দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমকি ২ শতাংশে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ গেল ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এসএইচ