মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার জানান, তারা রুশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছেন। একই সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ‘দেমার্শ’ নামের একটি গোপনীয় কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
আইসল্যান্ড সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে স্বচ্ছ হতে এবং বিশ্বের সঙ্গে আরও তথ্য আদান-প্রদান করতে উৎসাহিত করছি, যাতে আমরা সবাই পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারি।’
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ নির্ধারিত রয়েছে এবং এটি খুব দ্রুতই হবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কী বলছে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব গভীরভাবে আলোচনা করছি। সম্ভবত আগামীকাল এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।’
রাশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিপল অব বৈকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের প্লেগ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২৮ বছর বয়সী টেকনিশিয়ান দারিয়া শিপিলোভা হয়তো ভাঙা টেস্ট টিউব থেকে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অন্যান্য গণমাধ্যমেও ল্যাবে অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার সঙ্গে তার মৃত্যুর যোগসূত্র থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া তার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
তবে রুশ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের বিশেষ প্লেগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য তদারকি সংস্থা রসপতরেবনাদজর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নথির তথ্য ভুয়া দাবি করে টেলিগ্রামে জানিয়েছে, এই নথির তথ্য কোনো অফিশিয়াল উৎস থেকে আসেনি এবং এটি অসত্য। এ ছাড়া ময়নাতদন্তেও কোনো প্লেগের জীবাণু শনাক্ত হয়নি বলে রুশ কর্মকর্তাদের দাবি।
ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ সোমবার জানান, রসপতরেবনাদজরের তদন্তে দেখা গেছে ওই তরুণী নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুর কারণ এখনো ‘অনির্ধারিত’। তিনি বলেন, ‘তরুণীর পেশাগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অণুজীব তার জৈবিক নমুনায় পাওয়া যায়নি।’ শিপিলোভার মৃত্যুর পর ইনস্টিটিউটের অন্য কোনো কর্মী চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হননি বলেও তিনি জানান।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার পাঠানো তথ্যে জোর দিয়ে বলা হয়েছে ইরকুতস্ক শহরে এ ধরনের বিপজ্জনক কোনো রোগের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়নি। তবে ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আদহানোম গেব্রেয়াসুস পরে রাশিয়াকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি জানান, নিউমোনিয়ার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত জানতে মস্কোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিরূপণে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সময়মতো ও নিরপেক্ষ তথ্য বিনিময় অত্যন্ত জরুরি।
প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে মারাত্মক ও সংক্রামক, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আর বিউবোনিক প্লেগ সংক্রামিত মাছির কামড়ে ছড়ায়। ডব্লিউএইচও-এর মতে, দ্রুত চিকিৎসা না পেলে ফুসফুস বিকল হয়ে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে রাশিয়াকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় রুশ স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, মস্কোও যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গরাজ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং গত জুনে নিউ মেক্সিকোতে প্লেগে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আনে।
উল্লেখ্য, আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর ইরকুতস্কে প্লেগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্লেগ ইনস্টিটিউটের কর্মীর মৃত্যুর সঙ্গে এই সম্মেলনের কোনো সম্পর্ক নেই।





