চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আজ (বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকরের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত ৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পলায় এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে শেষবার তাকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই বলিউডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই অভিনেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তাজ ল্যান্ডস এন্ডে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি জিবি রিয়েলটির একটি অনুষ্ঠানে সালমান খানের যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সঞ্জয় লীলা বানসালির সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল ছবিতে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। সিনেমাটিতে মনীষা কৈরালার বাবা জোসেফের চরিত্রে নানা পাটেকার এবং রাজ চরিত্রে সালমান অভিনয় করেছিলেন।
নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন রজনীকান্ত, কামাল হাসান, চিরঞ্জীবী, জুনিয়র এনটিআর, অল্লু অর্জুন, রণবীর সিং, আলিয়া ভাট, সঞ্জয় দত্ত ও অক্ষয় কুমারসহ ভারতীয় বিনোদন জগতের শীর্ষ তারকারা। ক্রিকেটার বিরাট কোহলিও শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ‘আসল কিংবদন্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার শেষ ছবি বনবাস-এর সহ-অভিনেতা রাজপাল যাদব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মহারাষ্ট্রে ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা নানা পাটেকরের প্রকৃত নাম ছিল বিশ্বনাথ পাটেকর। মঞ্চনাটকের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা এই শক্তিমান অভিনেতার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ১৯৭৮ সালে গমন ছবির মাধ্যমে। এরপর পরিন্দা (১৯৮৯) ও প্রহার (১৯৯১) ছবির মাধ্যমে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। তার গম্ভীর কণ্ঠস্বর ও অসাধারণ সংলাপ প্রক্ষেপণ তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছিল।
পরবর্তী সময়ে অগ্নি সাক্ষী, খামোশি, শক্তি: দ্য পাওয়ার, আব তক ছাপ্পান, অপহরণ ও ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১ ছবিতে তার অভিনয় দাগ কাটে। শুধু সিরিয়াস বা মারকুটে চরিত্রেই নয়, কমেডিতেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। ২০০৭ সালে ওয়েলকাম ছবিতে গ্যাংস্টার উদয় শেঠি চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কমিক পারফরম্যান্স হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৫ সালে ওয়েলকাম ব্যাক ছবিতেও তিনি এই চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া রাজনীতি ও মারাঠি ভাষার সফল চলচ্চিত্র নটসম্রাট ছবিতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ভারত সরকারের বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী লাভ করেন।





