রাজধানীতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হল। শুনানিতে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেন, ‘মাছি মারতে স্লেজহ্যামার ব্যবহার করা যায় না।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয় থেকে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও এবং এমটিএনএলকে এ সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ আইনের বিধান মেনে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড় থেকে চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সব ধরনের মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধের আওতায় রয়েছে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিব, বারখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড এবং জংপুরার একাংশ বা পুরো এলাকা। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এর আগে বিক্ষোভের কারণে শুক্রবার রাত নয়টা থেকে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে শনিবার বিভিন্ন রাজ্য থেকে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়।
মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে হওয়া এক আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, ‘তরুণ ও প্রবীণ সবাই যাতায়াত করেন। সাধারণ যাত্রীদের মৌলিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার পার্থক্য আছে।’ আদালত জানান, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতেই পারে, তবে সবকিছু অচল করে মানুষকে পরিবহনহীন অবস্থায় ফেলা যায় না। এ সময় আদালতের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
গত জুলাইয়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলনের সময়ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে সে সময় এলাকা ছিল দেড় কিলোমিটার। এবার চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের কাজও ব্যাহত হতে পারে।





