বোর্ড অব পিসের লক্ষ্য কী ছিল
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রথম বোর্ড অব পিসের প্রস্তাব দেন, যা পরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজার ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করা।
চুক্তিতে ইসরাইলকে গাজার ৫০ শতাংশ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং বিমান ও কামানের গোলাবর্ষণ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং হামাসকে সব ইসরাইলি বন্দি হস্তান্তরের শর্ত ছিল। পাশাপাশি, সীমান্ত পারাপার খুলে দিয়ে গাজায় জরুরি সহায়তা প্রবেশের প্রস্তাবও রাখা হয়। এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ এবং নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এক বছরে কী অর্জন করেছে বোর্ড অব পিস
গত ফেব্রুয়ারিতে বিওপি সদস্য রাষ্ট্রগুলো গাজা পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল ঘোষণা করে। এছাড়া গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে তারা ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনাও উন্মোচন করেছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হামাস ১৬৮ জন জীবিত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং ইসরাইল ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দিয়েছে। হামাস গাজায় তাদের সরকার বিলুপ্তির ঘোষণাও দিয়েছে, যদিও ইসরাইল একে ‘স্টান্ট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে, অন্যান্য লক্ষ্যগুলো আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে বা একেবারেই হয়নি।
ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) গঠিত হলেও, ইসরাইল তাদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। সহায়তা প্রবেশেও রয়ে গেছে চরম বাধা। প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ঢোকার কথা থাকলেও ঢুকছে মাত্র ২২৭টি। ফলে প্রায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি চরম ক্ষুধার সম্মুখীন।
কোথায় ব্যর্থ হয়েছে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিওপি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। চুক্তির পর থেকে এক বছরে আরও ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরাইল এখন গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে, যা শান্তি চুক্তির ৫০ শতাংশের শর্তের চেয়ে বেশি।
দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মোহম্মদ এলমাসরি বলেন, ‘ইসরাইল মূলত ফিলিস্তিন ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। তারা ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে এবং এটি পরিকল্পিত।’
হামাস এনসিএজির কাছে অস্ত্র হস্তান্তরে রাজি হলেও, ইসরাইলি হামলা ও সেনা প্রত্যাহার না হওয়ায় অস্ত্র সমর্পণের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে, গাজায় কোনো স্থিতিশীল বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি বা উল্লেখযোগ্য পুনর্গঠনও শুরু হয়নি।
সব মিলিয়ে, ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমন মাবনের মতে, বিওপি সম্পূর্ণ ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিজেদের চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের এই ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে তারা কতটা অক্ষম। আর এই ব্যর্থতাই গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’
—আল জাজিরা প্রতিবেদনে অবলম্বনে





