জিবুতি উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি; ১৫ শিশুসহ নিহত অন্তত ১০৯

জিবুতির উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌকার ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করছেন আইওএমের এক সদস্য
জিবুতির উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌকার ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করছেন আইওএমের এক সদস্য | ছবি: সংগৃহীত
0

পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতি উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকাডুবে ১৫ শিশুসহ অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ১১৬ জন। আজ (রোববার, ১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা (আইওএম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইওএম বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানায়, তিন শতাধিক আরোহী নিয়ে নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে জিবুতির পূর্বাঞ্চলীয় গুহেরের কাছে এডেন উপসাগর ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালিমুখী এলাকায় নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক।

জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোইসাক ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের দল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে অভিবাসীরা এই রুটে চলাচল করতে গিয়ে কতটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েন, এই ট্র্যাজেডি তারই প্রমাণ।’

জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ হওয়া সত্ত্বেও হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলো থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে কাজের সন্ধানে যাওয়ার জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা সত্ত্বেও অভিবাসীদের এই বিপজ্জনক যাত্রা থামছে না।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি অভিবাসীর আগমন রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর ৫ লাখের বেশি মানুষ এই নৌপথে পারাপারের চেষ্টা করেছিলেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

এএম