ককরোচ যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে অভিযোগ তুলে আসছেন। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে, যা জাপানের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। নির্বাচন কমিশন অবশ্য কোনো পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মোদির বিজেপিও বিরোধীদের বিরুদ্ধে বৈধ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন তুলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অভিযোগ এনেছে।
শনিবার পুলিশ যখন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখন নেহা বোরা ১০ কিলোমিটার দূরের কারুপণ্যের বাজার দিল্লি হাটে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান। এক্সে তিনি লেখেন, ‘আজ দিল্লি হাটই যন্তর মন্তর হয়ে উঠছে।’ পরে পুলিশ তাকে অন্য আন্দোলনকারীর সঙ্গে আটক করলেও আটক অবস্থাতেই তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি আটক আছি, কিন্তু আন্দোলন আটক নেই।’ পরে শনিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উত্তরাখণ্ডে বেড়ে ওঠা নেহা বোরার বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় শৈশবে তাকে ঘন ঘন জায়গা বদলাতে হয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি একটি থিয়েটার দলে যুক্ত হন। রিপোর্টারের কাছে তিনি জানান, নাটকের মাধ্যমে তিনি এমন মানুষের জীবন অনুভব করতে শিখেছেন, যাদের সঙ্গে নিজের জীবনের মিল নেই। পরে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল গবেষণা শুরু করেন তিনি।
তার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০১৯ ও ২০২০ সালের নাগরিকত্ব আইনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়। যে আইনকে সমালোচকেরা মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন। সমবয়সী শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম ছেড়ে রাজপথে নামতে দেখে তিনি বই, সিনেমা ও তথ্যচিত্রে পড়া ভাবনাকে বাস্তব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ দিতে অনুপ্রাণিত হন বলে জানান।
গত জুলাইয়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বিক্ষোভের সময় তিনি আরও আলোচনায় আসেন। ওই সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। যন্তর মন্তরে পুলিশি ব্যবস্থা ও সরকারের সমালোচনা করে দেওয়া তার বক্তৃতা অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে নয়াদিল্লির বিভিন্ন বিক্ষোভে তিনি নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
নেহা বোরা বলেন, বর্তমান সমাবেশগুলো বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভেরই প্রতিফলন। তার ভাষায়, ‘মানুষ মনে রাখে। তারা সেই হতাশা, সেই প্রতারণার বোঝা বয়ে বেড়ায়।’ তিনি মনে করেন, ভয় যেমন ছড়ায়, আশাও তেমনি সংক্রামক। ‘মানুষ এখন সাহস পাচ্ছে, কারণ তারা বিশ্বাস করছে যে তারা সাহসী হতে পারে।’





