ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নয় ইরান!

তেহরানের একটি ব্যস্ত সড়ক
তেহরানের একটি ব্যস্ত সড়ক | ছবি: সংগৃহীত
0

তেহরানের দেয়া সাত শর্তের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা প্রধান মোহ-সেন রেজাই। তবে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নয় ইরান। যদিও তেহরানের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউজ। এদিকে, শর্ত নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই এক দিনে হরমুজ ও ওমান উপকূলে ৪টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্ততায় ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধ বন্ধে ৭টি শর্ত পাঠায় ইরান। শর্তগুলোর মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের মতো ইস্যুগুলো যুক্ত ছিল ।

সেসময় তেহরানের সাফ বার্তা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মানলে ৭ দিনের মধ্যে ফের সচল হবে হরমুজ। কিন্তু সেই ৭ দিন দুই সপ্তাহে গড়ালেও, মন গলেনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ফলে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান পাল্টাপাল্টি সংঘাত বন্ধ হলেও, প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি এখনও অনিশ্চিত।

এরইমধ্যে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই দাবি করেন, তেহরানের দেয়া ৭ শর্তের কয়েকটি মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। রেজাইয়ের সাফ বার্তা, ওয়াশিংটন ৭ শর্ত না মানলে আলোচনায় অগ্রসর হবে না তেহরান।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেয়া ৭ শর্তের কয়েকটি মানলেও অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। এগুলোর নিরসন ওয়াংশিংটনের কাছেই। আমরা ওয়াশিংটনের উত্তরের অপেক্ষায়।’

তবে, ইরানের দেয়া ৭ শর্তের কয়টি এখন পর্যন্ত মেনে নেয়ার আভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তা স্পষ্ট করেননি রেজাই। অন্যদিকে, ইরানের দাবির বিষয়ে এখনও নিজেদের অবস্থান জানায়নি ওয়াশিংটন।

শর্ত নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই হরমুজে নৌ-মাইনের আঘাতে একটি সুপার ট্যাঙ্কারে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানায়, ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম সুপার ট্যাঙ্কারটি নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রেখে কৌশলগত জলপথটি অতিক্রমের সময় পেতে রাখা নৌ-মাইনের আঘাতে এর ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। একই দিনে হরমুজে মাইনের আঘাতে আরও দুটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও, ওমান উপকূলে নোঙর করার সময় ড্রোনের আঘাতে আরও একটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুথিদের কয়েক দফা আক্রমণের মধ্যেই সংঘাত নিরসনের উপায় খুঁজতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী । বিশ্লেষকরা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় মুহুর্তে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে ইরান।

কুইন্সি ইন্সটিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত যেভাবে এগোচ্ছে; তা ইরানের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। হুথিরা লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ রাখায়; তা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে সহায়তা করছে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। একারণে তেহরানের উচিত হুথিদেরকে যুদ্ধবিরতির শর্তে রাজি করানো।’

এর আগে অবশ্য হুথি -সৌদি সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল তেহরান।

এফএস