তেল শোধনাগারে হামলায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, রাশিয়ার পাশে কিয়েভবিরোধী সুর ওয়াশিংটনের

ইয়ানডেক্সের সাসোভো ডেটা সেন্টার থেকে ধোঁয়া উঠছে
ইয়ানডেক্সের সাসোভো ডেটা সেন্টার থেকে ধোঁয়া উঠছে | ছবি: রয়টার্স
0

চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার একটি বড় তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের চালানো ড্রোন হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে মস্কো। সচরাচর এমন হামলার তথ্য গোপন রাখা বা খাটো করে দেখার প্রবণতা থাকলেও এবার উল্টো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ঘটনার ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য সম্প্রচার করেছে রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের এই হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দেয়ার পর সেই ঘটনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই মস্কো এই কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাধারণত ইউক্রেনীয় হামলায় শিল্প প্রতিষ্ঠানে আঘাতের কথা বলা হলেও মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে রিয়াজান এলাকার এই শোধনাগারটি যে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল, তা ওই অঞ্চলের গভর্নর সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত করেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় টিভিতে শোধনাগারে হামলার পরবর্তী দৃশ্য দেখানো হলো। রোসিয়া-২৪ চ্যানেলে সম্প্রচারিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে রিয়াজানের প্ল্যান্ট থেকে কালো ধোঁয়ার ছোট একটি কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেলেও কোনো আগুন দেখা যায়নি।

মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোষণার ৪ দিন পর এই ঘটনা ঘটল। যদিও কোনো পক্ষই সেই যুদ্ধবিরতির কথা নিশ্চিত করেনি। ইউক্রেনের দাবি, ট্রাম্পের সম্মানে তারা ৩ দিন হামলা বন্ধ রেখেছিল। তবে রাশিয়া ইউক্রেনের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাওয়ায় তারা পুনরায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে।

৩ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য রুশ শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকেই দায়ী করছেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প বলেছিলেন, কিয়েভের পক্ষ থেকে এ ধরনের হামলা ‘অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত’। আর বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের পুনরায় হামলা শুরুর পদক্ষেপকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

জ্বালানির দাম কমাতে মার্কিন ও বিশ্ববাজারে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানির বিষয়ে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি চুক্তির ঘোষণা দেন।

দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ হওয়া ট্রাম্পের অবস্থান ফের মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়ায় ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে দুই নেতার বাদানুবাদের পর সবচেয়ে নিম্নপর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন।

এদিকে বৃহস্পতিবার পুতিন বলেছেন, রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলা বড় কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। একই সঙ্গে মস্কো এর কড়া জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এএম