গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে এবার নিরাপত্তা জোরদার করার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘সহিংসতাকারী, লুটেরা এবং যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতি-বামপন্থি বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে সহিংসতার উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে মিছিল না করার শর্তে ছাত্র ও শ্রমিক ইউনিয়নকে বিকল্প পথে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও নিস, লিওঁ ও মঁপেলিয়ের মতো প্রধান শহরগুলোতে সব ধরনের জমায়েত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কায় প্যারিসের বিশ্বখ্যাত ল্যুভর, ওরেঁ ও পিকাসো জাদুঘর শনিবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা পেতে শঁজেলিজেসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট ও সরকারি ভবনের জানালার কাচ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এমনকি ফুটবল ক্লাব পিএসজির একটি নির্ধারিত ম্যাচও পিছিয়ে সোমবার নেওয়া হয়েছে।
মূলত জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গত সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে এবার যোগ দিচ্ছে পুনরুজ্জীবিত হওয়া ‘হলুদ ভেস্ট’ (ইয়েলো ভেস্ট) আন্দোলনকারীরা। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করে শনিবার দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভ ও দুই শতাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। গত সপ্তাহের সহিংসতায় লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান ল্যাকরনু ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শনে গিয়ে রাষ্ট্রীয় খরচে এটি আগের মতো পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেন।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৩২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার বাতিল, ভবিষ্যতে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে স্থগিতাদেশের মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্যারিসের দক্ষিণে ওরলেয়ঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির দুই দিনব্যাপী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতা মারিন লো পেনের বক্তব্য ঘিরে বামপন্থি দলগুলো পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।





