রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে শান্তিপূর্ণ অবরোধ শেষ, সাজেকে বহাল

অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান
অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান | ছবি: এখন টিভি
0

রাঙামাটির সাজেকে হামলার অভিযোগ তুলে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এক সংগঠনের ডাকা অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। দুই জেলার কোথাও সংঘাত-সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে চলমান অবরোধের কারণে সাজেকের পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

অবরোধে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিলো। তবে রাঙামাটি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের দূরপাল্লার বাস চলাচল ছিলো স্বাভাবিক। রাঙামাটি শহর থেকে জেলার ৬ উপজেলার নৌযোগাযোগও স্বাভাবিক ছিলো।

আজ (শনিবার, ২৪ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডাকা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালনে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করলেও নিরাপত্তাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তা স্থায়ী হয়নি।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থানে সড়কে গাছের গুড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করে অবরোধকারীরা। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেগুলো সরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক রাখেন সড়কপথ।

সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফের আরেক সংগঠন ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’। দুপুরে কর্মসুচি শেষ হলেও নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি সংগঠনটি।

আরও পড়ুন:

ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে সাজেক তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাই সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে।’

উষাতন চাকমা বলেন, ‘সাজেকে সন্ত্রাস ও উৎপাতের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি পূরণ করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা গত ২২ অক্টোবর সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সেনা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। দু-একটা স্থান ছাড়া যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিলো।’

উল্লেখ্য, তিন দফা দাবিতে তৃতীয় দফায় রাঙামাটি সাজেক সড়কে চলা ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুই সংগঠন ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের তৃতীয় দিন চলছে আজ। সকাল থেকেই সড়কটিতে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির সমর্থনে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। নতুন করে কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাজেকে যানবাহন চলাচল ও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।

এসএইচ